নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: ডুয়ার্সের কলাবাড়ি, আংরাভাসা, খেরকাটাকে কেন্দ্র করে ১০ কিমি এলাকাকে চিতাবাঘ উপদ্রুত বলে ঘোষণা করল বনদপ্তর। ওই এলাকায় সম্প্রতি চিতাবাঘের আক্রমণে কয়েকটি শিশু, কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। জঙ্গল লাগোয়া চা বাগান এলাকায় পায়ের ছাপ খতিয়ে দেখে বনদপ্তরের কর্তাদের দাবি, ওই এলাকায় একাধিক চিতাবাঘ রয়েছে। যারা প্রায় ১০ কিমি এলাকাজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। একারণে উপদ্রুত এলাকা ঘোষণার পাশাপাশি চিতাবাঘ ধরতে মরিয়া বনদপ্তর। দিন কয়েক আগে কুয়োয় পড়ে যাওয়ায় একটি চিতাবাঘ ধরতে পেরেছেন বনকর্মীরা। শুক্রবার রাতে নাগরাকাটার আলতাডাঙা গ্রাম থেকে খাঁচাবন্দি হয়েছে আরও একটি চিতাবাঘ। তারপরও অবশ্য নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না বনদপ্তরের আধিকারিকরা। কারণ, তাঁদের হিসেবে ওই এলাকায় এখনও একটি বা দু’টি চিতাবাঘ রয়ে গিয়েছে। ফলে যতক্ষণ না সেগুলি ধরা পড়ছে, চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না বনকর্তারা।
শনিবার গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, কলাবাড়ি, আংরাভাসা, খেরকেটা ও সংলগ্ন এলাকায় যেখানে পরপর কয়েকটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১০ কিমি এলাকাকে আমরা চিতাবাঘের ইনফ্লুয়েন্সিয়াল জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছি। ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি চিতাবাঘের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছি আমরা। এরমধ্যে এখনও পর্যন্ত দু’টি চিতাবাঘ ধরা পড়েছে। সেগুলিকে গোরুমারায় ছাড়া হচ্ছে না। পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে। আমাদের ধারণা, কলাবাড়িকে কেন্দ্র করে কয়েক কিমির মধ্যে চা বাগান এলাকায় এখনও একটি বা দু’টি চিতাবাঘ রয়েছে। তাদের খাঁচাবন্দি করতে বনদপ্তর অলআউট অপারেশন চালাচ্ছে।
ডিএফও আরও বলেন, কলাবাড়ি, আংরাভাসা ও খেরকাটাকে কেন্দ্র করে ১৫টি খাঁচা বসানো রয়েছে। চিতাবাঘের গতিবিধির উপর নজর রাখতে ওই এলাকায় ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়েছি আমরা। এছাড়াও তিনটি গাড়ি সবসময়ের জন্য ওই এলাকায় মোতায়েন রাখা হয়েছে। বনকর্মীরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
শুক্রবার রাতে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় জলঢাকা নদীর তীরে আলতাডাঙা গ্রামে আটকে পড়ে পূর্ণবয়স্ক একটি পুরুষ চিতাবাঘ। এছাড়া, মাল ব্লকের মিনগ্লাস চা বাগানের ডালিমকোট ডিভিশনেও এদিন সকালে একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ ধরা পড়ে। এদিকে, মোরাঘাট রেঞ্জে চা বাগানের নালায় চিতাবাঘের শাবকের দেখা মেলে শনিবার। ডিএফও বলেন, চিতাবাঘ শাবকটির উপর নজর রাখছি আমরা। হয়তো শীঘ্রই শাবকটিকে তার মা এসে নিয়ে যাবে। নিজস্ব চিত্র।