Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ঘরোয়া লিগে বিদেশি ফেরানো হোক: অতনু ভট্টাচার্য

ঘরোয়া লিগ ঘিরে বাঙালি বরাবরই নস্টালজিক। একটা সময় লিগের ম্যাচে সবুজ ঘাসে স্ফুলিঙ্গ ছুটত। ময়দান জুড়ে উত্থান-পতন, হাসিকান্নার কোলাজ। কলকাতা লিগ বহু তারকার জন্মদাতা। অনেকেরই কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে জলকাদার ফুটবল। তাদের মধ্যে বাছাই করা তারকারা অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুললেন বর্তমানের পাঠকদের জন্য।

ঘরোয়া লিগে বিদেশি ফেরানো হোক: অতনু ভট্টাচার্য
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই ময়দানের সঙ্গে পরিচয়। বাবা ফুটবলার ছিলেন। সেই সুবাদে বাড়ির আড্ডায় স্থান করে নিত ময়দানি গল্প। আর তা শুনেই ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু। ১৯৭৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে টালিগঞ্জ অগ্রগামী। এরপর উয়াড়ি, সালকিয়া ফ্রেন্ডস হয়ে সুযোগ মেলে মহমেডান স্পোর্টিংয়ে খেলার। ঘেরা মাঠে প্রথম ম্যাচের স্মৃতি আজও অম্লান। সার্বিকভাবে বলতে গেলে আমার ভারতীয় ফুটবলে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পিছনে সাদা-কালো জার্সির অবদান অনেক। তিন বছর চুটিয়ে খেলেছি এই ক্লাবে। তখন কলকাতা লিগের পারফরম্যান্সই ছিল ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার অন্যতম মাপকাঠি। 

Advertisement

জাতীয় দলের ক্যাম্প বা কখনও অফিস খেলার জন্য বেশিরভাগ সময় কলকাতার বাইরে থাকতে হয়েছে। তবু মন পড়ে থাকত কলকাতা লিগে। কী প্রচণ্ড কম্পিটিশন ছিল তখন। আর বড় ম্যাচ হলে তো কথাই নেই। মনে আছে, মহমেডানে আমার দ্বিতীয় মরশুমের কথা। সেবার আমরা মোহন বাগান আর ইস্ট বেঙ্গলকে খুব বেগ দিয়েছিলাম। তখন বড় ম্যাচ হতো ইডেনে। ডালহৌসির অফিস পাড়া ভরিয়ে দিত গ্যালারি। শুধু বড় ম্যাচ নয়, তখন ছোট দলের খেলায়ও গ্যালারিতে বসার জায়গা থাকত না।  গোটা ভারত তাকিয়ে থাকত কলকাতা লিগের দিকে। ভালো খেললে জাতীয় দল থেকে ডাক নিশ্চিত। সেই সময় ভারতীয় দলের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাহলেই বুঝবেন আমি কতটা ঠিক। স্কোয়াডে একঝাঁক বাংলার প্লেয়ার। সকলেই ঘরোয়া লিগের প্রোডাক্ট। আর আজ ভারতীয় দলে বাঙালি প্রায় নেই বললেই চলে। এর প্রধান কারণ, কলকাতা লিগ তার কৌলিন্য হারিয়েছে। এই লিগে বিদেশি ফুটবলার খেলানোয় নিষেধাজ্ঞা কেন? এমন সিদ্ধান্ত মানা যায় না। বিদেশিদের সঙ্গে কিংবা বিরুদ্ধে খেললে আখেরে লাভবান হবে বাংলার ছেলেরাই। তাই লিগে বিদেশি ফেরানো হোক।
শেষ পর্বে একটা ছোট্ট ঘটনার উল্লেখ করতে চাই। ইস্ট বেঙ্গলের কোচ তখন ট্রেভর মর‌গ্যান। এই অধমকে গোলকিপার কোচের দায়িত্ব দেন কর্তারা। অনুশীলনে সাড়ে ছ’ফুটের এক পাঞ্জাবি গোলরক্ষক নজর কেড়েছিল। হাওড়া স্টেডিয়ামে ঘরোয়া লিগের ম্যাচে পেনাল্টি বাঁচিয়ে নজর কাড়ে ছেলেটি। পরবর্তীতে দেশের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকের তকমা পায় গুরপ্রীত সিং সান্ধু। ঘরোয়া লিগ কিন্তু প্রতিভার খনি। একটু যত্ন নিলে মূল্যবান রত্ন মিলতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ