Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খোল-করতালে বিদেশিনীরা, হরিনামে ভাসল দীঘা

খোল-করতালে বিদেশিনীরা, হরিনামে ভাসল দীঘা
  • ১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘা: জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে শামিল হলেন বিদেশিনীরাও। তাঁদের নাচের ছন্দে মুখরিত হয়ে উঠল মন্দির চত্বর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ও সুরারোপিত ‘জয় জগন্নাথ’ গান গাইলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সেই গানের তালে দোলা লাগল মন্দির চত্বরে হাজির অতিথিদের মনেও। খোল, করতাল সহযোগে হরিনাম ধ্বনিত হয়ে উঠল। জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ইসকনের সাধু সন্ন্যাসীরা। অক্ষয় তৃতীয়ায় দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সাধুসন্তদের ভিড়ে সৈকত সুন্দরী যেন আধ্যাত্মিকতার পুণ্যভূমিতে পরিণত হল। সকাল ১১টা থেকেই ইসকনের সাধু সন্ন্যাসীরা দলে দলে মন্দির প্রাঙ্গণে চলে আসেন। কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মন্দির উদ্বোধনে তাঁকে বরাবর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই দেখা গেল। তাঁর সঙ্গে ইসকনের আরও অনেকে দীঘায় এসেছেন। মায়াপুর থেকেও ইসকনের অনেক সাধু সন্ন্যাসী এসেছেন। তাঁরা এদিন মন্দিরের সামনে খোল, করতাল নিয়ে হরেকৃষ্ণ ধ্বনি তোলেন। মায়াপুর ইসকন থেকে আগত চৈতন্য ভক্তদের মধ্যে ছিলেন অনেক বিদেশিনীও। তাঁরাও জগন্নাথ মন্দিরে নাচে অংশ নেন। শুধুই ইসকন নয়, আদ্যাপীঠ, বেলুড় মঠ, জয়রামবাটি, কামারপুকুর, চাকলা ধাম, কালীঘাট, নকুলেশ্বর ভৈরবী সহ গোটা বাংলা থেকে অজস্র ভক্তপ্রাণ মানুষ এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শামিল হন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ঘোষণা করে দিয়েছেন, ইসকন রোজ জগন্নাথ মন্দিরে ভোগ সেবা করবে। ইসকনকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় খুশি ওই প্রতিষ্ঠানের সাধু সন্ন্যাসীরা। এদিকে মন্দিরের ছ’ নম্বর গেটের বাইরে পুজোর সামগ্রী বিক্রির জন্য স্টল তৈরির কাজ চলছে জোর কদমে। স্টল নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে সেগুলি সরকারি নিয়ম মেনেই বিলি করা হবে। সেখান থেকেই বিক্রি হবে পুজোর যাবতীয় সামগ্রী। মন্দিরের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিস থাকবে। মন্দিরের প্রশাসনিক ভবনের একাংশকে পুলিস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোপালনগরের চৌবেড়িয়ার শিবকালী আশ্রম থেকে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে এসেছিলেন কাশ্যপ গিরি ও রাখালচন্দ্র নস্কর। তাঁরা বলেন, এখন দীঘা আর শুধুই পর্যটন কেন্দ্র নয়, তীর্থক্ষেত্রও। আমাদের মতো ভক্তরাও এবার থেকে নিয়মিত দীঘায় আসবে প্রভু জগন্নাথকে দর্শন করতে। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। তমলুক শহরের ধারিন্দা অম্বিকেশ্বর মন্দিরের দুই ভক্ত সুভাষচন্দ্র দাস ও মদন দাস বলেন, এতদিন জগন্নাথ দেবকে দর্শন করতে পুরী যেতাম। আর পুরী যেতে হবে না। এবার দীঘায় এসে জগন্নাথ দর্শন হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে ধন্য মনে করছি। এদিন ইসকন থেকে আগত বেশ কয়েকজন বিদেশিনী মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলের কাছে ছিলেন। জয় জগন্নাথ গানের তালে তালে তাঁদের হাত ধরাধরি করে নাচতে দেখা যায়। তাঁরা বলেন, অপূর্ব সুন্দর এই মন্দির। ইসকনকে রোজ ভোগ সেবার দায়িত্ব দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ