সংবাদদাতা, বহরমপুর: স্থানীয় বাজারে কুমড়োর দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। তাই মুর্শিদাবাদের চাষিরা ভিনরাজ্যের জুস কোম্পানিগুলির কাছে কুমড়ো বিক্রি করছেন। ফড়েদের মাধ্যমে জুস কোম্পনিগুলিকে কুমড়ো বিক্রি করে চাষিরা কুইন্টাল প্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০টাকা দাম পাচ্ছেন। চাষিদের দাবি, খুচরো বাজারে আলু জমির মিষ্টি কুমড়ো ১৫-২০টাকা প্রতি কিলোগ্রামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ পাইকারি ব্যবসায়ীরা কুইন্টালে ২৫০টাকার বেশি দাম দিচ্ছেন না। জমি থেকে কুমড়ো বাজারে নিয়ে যেতেও খরচা হচ্ছে। কিন্তু, জুস কোম্পানিগুলি ফড়েদের মাধ্যমে জমি থেকেই কুমড়ো কিনে নিয়ে লরিতে লোড করে নিয়ে যাচ্ছে। বড় বড় লরিতে সেই কুমড়ো চলে যাচ্ছে রাজ্যের বাইরে।
মুর্শিদাবাদের চাষিরা জমি থেকে আলু তুলে নেওয়ার পর সেই জমিতেই কুমড়ো চাষ করেন। আলু তোলার পর কুমড়ো গাছের পরিচর্যা করতে হয়। বার দুয়েক জল সেচ দেওয়া ছাড়া আর কোনও খরচ হয় না। কার্যত আলু চাষের খরচে চাষিরা দু’টি ফসল ঘরে তোলেন। এবার জেলায় প্রায় ছ’হাজার হেক্টর জমিতে কুমড়ো চাষ হয়েছে। আলুর জমিতে কুমড়ো ফলনও ভালো হয়েছে। চাষিদের দাবি, বিঘা প্রতি জমিতে ১০০-১২০কুইন্টাল পর্যন্ত কুমড়োর ফলন হচ্ছে। বেশকিছু কুমড়ো কাঁচা অবস্থাতেই বিক্রি হয়। তবে সিংহভাগ কুমড়োই চাষিরা পাকিয়ে বিক্রি করেন। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা বেশিদিন তা ঘরেও রাখতে পারেন না। কুমড়ো পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু, দাম না মেলায় চাষিদের মুখ ব্যাজার। তাঁদের দাবি, কুমড়ো হল পুরোপুরি লাভের ফসল। যা দাম আসে তাই অনেক। কয়থা এলাকার কুমড়ো চাষি গাজু শেখ বলেন, গত বছর কুমড়ো চাষ করে ভালো দাম পেয়েছি। এবার কুমড়োর দাম তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিক্রি করে জমি খালি করে ঘরে ঢোকানোর চেষ্টা করছি।
মুর্শিদাবাদে প্রচুর পরিমাণে কুমড়ো উৎপাদন হয়েছে। ভিনরাজ্যে তা রপ্তানি না করলে চাষিরা চরম বিড়ম্বনায় পড়তেন। লাহারপাড়ার কুমড়ো চাষি চন্দন ঘোষ বলেন, জুস কোম্পানিগুলি মাঠে নেমে কুমড়ো কিনছে বলে চাষিদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। দু’বছর আগে বিক্রি করতে না পারায় কয়েক কুইন্টাল কুমড়ো জমিতে পড়েই নষ্ট হয়েছে। মুর্শিদাবাদ থেকে লরিতে প্রচুর কুমড়ো দিল্লি, আমেদাবাদ সহ বিভিন্ন রাজ্যে যাচ্ছে। কুমড়ো ক্রেতা মিলাই শেখ বলেন, দিল্লির জুস ফ্যাক্টারিতে কুমড়ো সব থেকে বেশি যাচ্ছে।