Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্রহরত্ন বিক্রির আড়ালে বৈদেশিক মুদ্রা তছরুপ! কলকাতা ও সল্টলেকে ইডি তল্লাশি

গ্রহরত্ন বিক্রির নামে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বাড়ি-অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় বুধবার তল্লাশি চালাল ইডি।

গ্রহরত্ন বিক্রির আড়ালে বৈদেশিক মুদ্রা তছরুপ! কলকাতা ও সল্টলেকে ইডি তল্লাশি
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্রহরত্ন বিক্রির নামে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বাড়ি-অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় বুধবার তল্লাশি চালাল ইডি। ৩৫০ কোটি টাকা আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় এদিন কলকাতা, সল্টলেক, গুজরাত ও হায়দরাবাদে কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ লেনদেনের নথি উদ্ধার করেছে বলে খবর। এর পিছনে একটি বড়ো চক্র রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাদের খোঁজ চলছে।

Advertisement

মাসখানেক আগে ইডি গ্রহরত্ন বিক্রি ও বিদেশে পাচারের আড়ালে তছরুপের কেস রুজু করে। এজেন্সি তদন্তে নেমে জানতে পারে, বিভিন্ন গ্রহরত্ন বা পাথরের যা দাম তার চাইতে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। খাতায়কলমে যা দাম দেখানো হচ্ছে তার চাইতে অনেক বেশি পেমেন্ট নিচ্ছে গ্রহরত্ন ব্যবসায়ীরা। লেনদেনের বেশিরভাগটাই চলছে  নগদে। এই টাকা বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বিদেশে কাচ পাথর পাঠিয়ে দেখানো হচ্ছে আসল গ্রহরত্ন গিয়েছে। যার জন্য বিপুল টাকা ডলারে পেমেন্ট আসছে। বাস্তবে কোনও কিছুই বিক্রি হয়নি। বিদেশে ভুয়ো কারবার দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে অভিযোগ। ডলার আসার পর তা আবার হাওলা করে বিদেশে চলে গিয়েছে। যার পরিমাণ সবমিলিয়ে ৩৫০ কোটি বলে জানা যায়।  
ইডি তদন্তে উঠে আসে সল্টলেকের সিএফ ব্লকের একজন এজেন্ট রয়েছেম। যিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে পাথর নিয়ে আসছেন। সেগুলি কলকাতা ও জেলার বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি গুজরাত ও হায়দরাবাদে মাল যাচ্ছে। ওই এজেন্টের আবার একাধিক সাব-এজেন্ট রয়েছে। যাঁরা গ্রহরত্ন বিভিন্ন দোকানে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তার ভিত্তিতেই  বুধবার সল্টলেকের সিএফ ব্লকের ওই এজেন্টের বাড়ি ও ডালহৌসির কিরণশংকর রায় রোডের অফিসে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিদেশে গ্রহরত্ন পাঠিয়ে আসা লেনদেনের নথি। এমনকি বিভিন্ন দোকানে মাল পাঠানোর পর যে পেমেন্ট এসেছে তার হিসেবের খাতা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। সেগুলি ঘেঁটে জানা যাচ্ছে, স্থানীয় দোকানে গ্রাহকদের বেশি দামে রত্ন বিক্রি করা হয়েছে। তাঁদের ভুয়ো জিএসটি বিল দিয়েছে দোকানগুলি। এরপর দোকান মালিকদের একাংশ বিল তৈরি করে কম জিএসটি দিয়ে মাল বিক্রির নথি তৈরি করেছেন। ক্রেতাদের কাছ থেকে আসা বাড়তি অর্থ বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে ডলারে রূপান্তরিত করে বিদেশে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ।  ওই এজেন্টসহ এই চক্রে জড়িত লোকজনকে ডেকে পাঠাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ