Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফোর্স-সিসি ক্যামেরা, বাড়তি নিরাপত্তা বইমেলায়

১৩ দিনের বইমেলায় এবার ছুটির দিনের সংখ্যা ৬। বইমেলার মধ্যে পড়ছে বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে, সরস্বতী পুজো। তাই বইপ্রেমীদের ভিড় যে বাড়বে, তা নিয়ে নিশ্চিত গিল্ড।

ফোর্স-সিসি ক্যামেরা, বাড়তি নিরাপত্তা বইমেলায়
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ১৩ দিনের বইমেলায় এবার ছুটির দিনের সংখ্যা ৬। বইমেলার মধ্যে পড়ছে বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে, সরস্বতী পুজো। তাই বইপ্রেমীদের ভিড় যে বাড়বে, তা নিয়ে নিশ্চিত গিল্ড। সঙ্গে এই প্রথমবার হাওড়া, ধর্মতলা থেকে বইমেলা পর্যন্ত সরাসরি জুড়ে গিয়েছে মেট্রো পরিষেবা। তাতেও বাড়বে ভিড়। ফলে এবার ভিড় মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। জানা গিয়েছে, বইমেলার ভিতরে এবং বাইরে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি পয়েন্টেই থাকবে সিসি ক্যামেরা। কন্ট্রোল রুম থেকে চলবে পুরো বইমেলার উপর নজরদারি। সবমিলিয়ে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হবে মেলাকে, যাতে কোনওভাবেই বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।

Advertisement

সল্টলেক করুণাময়ীর বইমেলা প্রাঙ্গণে এখন তুমুল ব্যস্ততা চলছে। সেজে উঠছে তোরণ, সারি সারি বইয়ের স্টল, প্যাভিলিয়ন। ২২ জানুয়ারি ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার সূচনা। ওইদিন বিকেল ৪টের সময় উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আসেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বাদানা বরুণ চন্দ্রশেখর, পাবলিসার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে, সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, যুগ্ম সম্পাদক শুভঙ্কর দে সহ অনেকে। বইমেলার প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত বিধাননগর পুরসভা, কেএমডিএ, বিদ্যুৎবন্টন সংস্থা, দমকল সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরাও হাজির ছিলেন। পরিদর্শনের আগে মেলা প্রাঙ্গণে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
স্টলের কাজ কত দূর এগিয়েছে, কতটা এখনও বাকি রয়েছে, নকশা কীভাবে তৈরি হয়েছে, মেলা প্রাঙ্গণে কোথাও কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তাহলে তার কী সমাধান ইত্যাদি সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরে পুলিশ কমিশনার মুকেশ বলেন, এবার হাওড়ার সঙ্গে মেট্রো যুক্ত হওয়ায় ভিড় বাড়বে। তার জন্য আমরা পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছি। প্রতিটি পয়েন্টেই পুলিশ থাকবে। সিসি ক্যামেরায় নজরদারিও চলবে। বইমেলার ভিড় মোকাবিলা ছাড়াও, বাইরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের উপরও জোর দেওয়া হবে, যাতে যানজট না হয়। বাড়তি ফোর্সের সঙ্গে ছুটির দিন বাড়তি পার্কিংয়েরও ব্যবস্থা থাকবে। দমকলের ইঞ্জিন বইমেলায় থাকবে। সেই সঙ্গে বুক স্টলের কর্মীদেরও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি প্রশিক্ষণ দিতে বলা হয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে স্টলের ভিতরে থাকা অগ্নিনির্বাপক তাঁরা ব্যবহার করতে পারবেন। 
গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে এবং সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, মেট্রোর সংযোগের সঙ্গে একাধিক ছুটির দিন, বইপ্রেমীদের কাছে তা বাড়তি পাওনা। গতবার ২৭ লক্ষ বইপ্রেমী মানুষ হাজির হয়েছিলেন। এবার সেই ভিড় ছাপিয়ে যাবে। গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক শুভঙ্কর দে বলেন, ‘এবার বইমেলার মধ্যেই দু’টি শনি ও রবি পড়েছে। তাছাড়া ২৩ এবং ২৬ জানুয়ারি পড়েছে। উদ্বোধনের পরদিন পড়ছে সরস্বতী পুজো। সবমিলিয়ে ভিড় বাড়বে। আমরাও চাই, মেলায় বইপ্রেমীদের প্লাবন নামুক।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ