Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রথমবার শিল্পী গণেশ হালুইয়ের ভাবনায় গড়ে উঠছে দুর্গা প্রতিমা, থিম বৈচিত্র্যে সাজছে বেলেঘাটা থেকে কাঁকুড়গাছি

বিমূর্ততাই সুন্দর করে পৃথিবীকে। এই ধারণা বিশ্বখ্যাত শিল্পী গণেশ হালুইয়ের। বাংলার এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর ছোঁয়ায় এবার সেজে উঠবেন দেবী দুর্গা।

প্রথমবার শিল্পী গণেশ হালুইয়ের ভাবনায় গড়ে উঠছে দুর্গা প্রতিমা, থিম বৈচিত্র্যে সাজছে বেলেঘাটা থেকে কাঁকুড়গাছি
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শান্তনু দত্ত, কলকাতা: বিমূর্ততাই সুন্দর করে পৃথিবীকে। এই ধারণা বিশ্বখ্যাত শিল্পী গণেশ হালুইয়ের। বাংলার এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর ছোঁয়ায় এবার সেজে উঠবেন দেবী দুর্গা। প্রথমবার থিম পুজোয় শামিল হবেন তিনি। কিংবদন্তি শিল্পীর কল্পনাপ্রসূত দেবী প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে বেলেঘাটা ৩৩ পল্লিতে। শিল্পী শিবশংকর দাসের ভাবনায় রজত জয়ন্তী বর্ষে এই পুজো কমিটির থিম ‘তিন তিন শর্ত তিন’। মানুষের জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তিন শর্তের কথা উঠে আসবে মণ্ডপজুড়ে। আর সেই থিমই অন্যমাত্রা পাচ্ছে নবতিপর গণেশ হালুইয়ের ছোঁয়ায়। শিবশংকর জানালেন, ‘গণেশবাবু দেবী প্রতিমার স্কেচ করছেন। সেই ছবিকেই মূর্ত করছি আমরা। কেবল প্রতিমা নয়, মণ্ডপের একাংশের পরিকল্পনাও করেছেন তিনি।’

Advertisement

বেলেঘাটা ৩৩ পল্লির মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলেই মিলবে প্রকৃতি সচেতনতার পাঠ পড়ার সুযোগ। ৮৪তম বর্ষে বেলেঘাটার শুঁড়া স্পোর্টিং ক্লাবের থিম ‘ঋতুগর্ভা’। শিল্পী তাপসী মুখোপাধ্যায় জানালেন, ‘মানুষের নানা কার্যকলাপে প্রকৃতি মা ভীষণ কষ্টে রয়েছেন। আমরা যেন তাঁর অবদান কখনও ভুলে না যাই।’ এই ভাবনাই ফুটে উঠছে মণ্ডপেও। শস্য, জল, খনিজ সম্পদের মতো নানা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে সেজে উঠছে মণ্ডপ। প্রতিমা এখানে প্রকৃতি স্বরূপিণী। নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছেন বাহন সিংহকে। তাঁর চারপাশে পশু-পাখি। কিছুটা দূরেই বেলেঘাটা সন্ধানীর মণ্ডপ। গেলে মনে হবে সময় যেন দু’দিকে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একদিকে ফ্ল্যাট-আবাসনের ছড়াছড়ি, অন্যদিকে পাড়া কালচার। এই দুই সময়ের মাঝে প্রতিবেশীরা যেভাবে হারিয়ে গিয়েছেন, তাই উঠে আসবে মণ্ডপে। ৫৬ তম বর্ষে তাদের থিম ‘পড়শী’। 
বেলেঘাটা থেকে অটো, বাস বা গাড়ি করে চলে পৌঁছে যেতে পারেন কেরলে। সাক্ষী থাকবেন ওনাম উৎসবের। না, ভুল লেখা হয়নি। কারণ কাঁকুড়গাছি যুবকবৃন্দে এ বছর দেখতে পাবেন কেরলের এই বিখ্যাত উৎসব। মণ্ডপে ঢুকতেই চোখে পড়বে বড় নৌকা। ভল্লম কালি (নৌকা দৌড়), পুক্কালম সহ নানা ঐতিহ্যের দেখা পাওয়া যাবে। সঙ্গে কেরল, গুজরাত ও বাংলার বিভিন্ন রাজ্যের শিল্পীদের লাইভ কথাকলি পারফরম্যান্স থাকবে মণ্ডপে। কাঁকুড়গাছি মিতালি সঙ্ঘে বসছে ‘শখের বাজার’। ঝুড়ি, বাটখাড়া, আলু-পটল-ঝিঙে, মশলা... নানা উপাদানের পসরা সাজিয়ে চলছে বাজার, দরদাম। মিতালি সঙ্ঘের পুজোমণ্ডপ যেখানে তৈরি হয়, সেখানেই বছরের অন্যান্য দিন বাজার বসে। স্থানীয়ভাবে তা পরিচিত ঘোষ বাজার নামে। এই বাজারের কথা মাথা রেখেই এবারের থিম পরিকল্পনা করেছেন পুজো উদ্যোক্তারা। 
‘টিকটিকি বিছের খাদ্য না বিছে টিকটিকির খাদ্য?’ ‘সোনার কেল্লা’ ছবির মন্দার বোসের এই প্রশ্ন আপনাকে তাড়া করবে কাঁকুড়গাছির চলন্তিকা দুর্গোৎসব কমিটির মণ্ডপে। ৬৪তম বর্ষে তাদের ভাবনা ‘টিকটিকি’। বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা, রহস্যভেদীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে এখানে। মণ্ডপে ঢুকলে দর্শকই হয়ে উঠবেন একেকজন টিকটিকি। কীভাবে? জবাব মিলবে গোয়েন্দা পাড়ায় প্রবেশের পরেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ