সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্পিড বোটে সওয়ার দু’জন বনকর্মী। চারদিক ঘন জঙ্গল। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। জলে কুমীর, ডাঙায় বাঘ! এই প্রথম রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ডেরায় ঢুকে অফিসবাড়ি, ফ্লোটিং ক্যাম্পের গণনা হল সুন্দরবনে। বনকর্মীদের সহায়তায় সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের কোর এলাকার ভিতরে ঢুকে চলল সেন্সাস। বিট অফিস থেকে রেঞ্জারের ঘর, এমনকি নদীতে টাইগার রিজার্ভের যত ফ্লোটিং ক্যাম্প রয়েছে, সব জায়গায় পড়ল গণনার নম্বর। সেন্সাসের ইতিহাসে এর আগে কোনোদিন এই অংশগুলি গণনার আওতায় আসেনি। কিন্তু এবার আগাম পরিকল্পনা করে গোসাবা ব্লক অফিসের এক কর্মীকে ইনিউমারেটরের দায়িত্ব দিয়ে এই কর্মকাণ্ড শেষ করা হয়।
জানা গিয়েছে, জঙ্গলে সব মিলিয়ে নম্বর পড়েছে ৬৫টি ভবনে। তার মধ্যে অফিসঘর ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার হয়, এমন ঘরের সংখ্যা ৩১। বাকিগুলি থাকার ঘর, যেখানে বনকর্মী ও আধিকারিকরা থাকেন। জানা গিয়েছে, এবারে গণনা চলাকালীন সুন্দরবনে পা রেখেছিলেন ডিরেক্টরেট অফ সেন্সাসের এক পদস্থ আধিকারিক। তিনি মূলত সুন্দরবনের প্রত্যেক প্রান্তের ঘরবাড়ির গণনা যাতে হয়, সেই উদ্যোগ নিয়ে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে একদিন গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন। কোথায় কোথায় এতদিন গণনার কাজ হত না, সবটা খোঁজ নিয়ে তিনি ঠিক করেন, এবার যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রত্যেক ঘরবাড়ির তথ্য আপলোড হবেই। সেই মতো এই কাজে কোনো শিক্ষক নয়, ভরসা করা হয় শুভঙ্কর মণ্ডল নামে ব্লকেরই একজন কর্মীকে। তিনি বলেন, ‘বন বিভাগের তরফে আমাদের একটি স্পিড বোট দিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকতেন দুজন বনকর্মী। এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। সজনেখালি থেকে দোবাঁকি, একেবারে বাংলাদেশ জল সীমানার কাছে অবস্থিত টাইগার রিজার্ভের শেষ ফ্লোটিং ক্যাম্পে গিয়ে গণনার কাজ করতে হয়েছে।’ জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে সাতটি ফ্লোটিং ক্যাম্প এবং ১২টি বিট অফিসে গণনার ছাপ পড়েছে। এছাড়াও একাধিক বারাক, অফিস তো আছেই। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এবারের এই গণনায় দ্বীপাঞ্চল ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় ভারতের অংশ হিসাবে
কী কী আছে, সবটাই নথিভুক্ত হয়ে থাকল। তবে জলপথে বিএসএফের একাধিক ফ্লোটিং ক্যাম্প থাকলেও গোপনীয়তা ও হাই সিকিউরিটি জোন বলে গণনার আওতায় আনা হয়নি। শুধুমাত্র টাইগার রিজার্ভের যত বাড়িঘর প্রভৃতি আছে, সেগুলিতে নম্বর ফেলে নথিভুক্ত করা হয়েছে।