নয়াদিল্লি: দেশে অর্থনৈতিক সংকট স্পষ্ট। তার প্রভাব পড়েছে চাকরির বাজারেও। ‘হোয়াইট কলার হায়ারিং’ অর্থাৎ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অফিসের কাজে নিয়োগের হার ক্রমশ কমছে। মার্চ থেকে জুন। টানা চারমাস পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি। সম্প্রতি ফাউন্ডইট নামে এক নিয়োগ সমীক্ষাকারী সংস্থার রিপোর্টে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষবার নিয়োগের হার বেশি ছিল ফেব্রুয়ারিতে। সংখ্যাটি ছিল ৪০৪। মার্চ মাসে তা কমে হয় ৩৮৫। এরপর এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত সংখ্যাটা কমে হয়েছে যথাক্রমে ৩৭০, ৩৪৮ ও ৩৩১। ফ্রেব্রুয়ারির তুলনায় নিয়োগের হার কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় শুধু জুনমাসেই নিয়োগ কমেছে ৯ শতাংশ। এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, দেশের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রবল অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হয়েছে সংস্থাগুলি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ক্ষেত্রগুলিতে নিয়োগ সবচেয়ে কমেছে। সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে বলা হয়েছে, জুন মাসে আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে নিয়োগের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। বৈদেশিক বাণিজ্য হ্রাস, আন্তঃসীমান্ত পণ্য চলাচল কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি। একইসঙ্গে রাসায়নিক ও প্লাস্টিক ব্যবসায় বার্ষিক ২৮ শতাংশ, লজিস্টিকস-পরিবহণ ক্ষেত্রে বার্ষিক ২৩ শতাংশ নিয়োগ কমেছে। জ্বালানি, আইটি সফ্টওয়্যার সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছবিটা একইরকম। বিশেষজ্ঞদের কথায়, এভাবে নিয়োগ কমলে দেশে বেকারত্ব আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে।