Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৩০০ বছর ধরে হালখাতা বিষ্ণুপুরের শাঁখারি বাজারে

ব্যবসায় শ্রীবৃদ্ধি কামনায় বিষ্ণুপুরের শাঁখারি বাজারের প্রায় ২০জন ব্যবসায়ী একত্রে হালখাতা পুজোর আয়োজন করেন।

৩০০ বছর ধরে হালখাতা বিষ্ণুপুরের শাঁখারি বাজারে
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: ব্যবসায় শ্রীবৃদ্ধি কামনায় বিষ্ণুপুরের শাঁখারি বাজারের প্রায় ২০জন ব্যবসায়ী একত্রে হালখাতা পুজোর আয়োজন করেন। ১ বৈশাখ খাঁ পরিবারের দুর্গামণ্ডপে ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ নতুন খাতার পুজো করেন। পুরোহিত সব মিলিয়ে ৫০ এর অধিক নতুন খাতায় সিঁদুরের গণেশ এঁকে তাঁদের ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি বিষ্ণুপুরের সমস্ত ব্যবসায়ীদেরও মঙ্গল কামনায় বিশেষ পুজো প্রার্থনা করেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, মূলত খাঁ পরিবারের পূর্বপুরুষেরা ওই পুজোর প্রচলন করেছিলন। পরম্পরা মেনে প্রায় ৩০০বছর ধরে এভাবেই তাঁরা একত্রে হালখাতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তা দেখতে আশেপাশের বহু মানুষজন মন্দিরে ভিড় জমান। 

Advertisement

আয়োজকদের মধ্যে পিনাকিরঞ্জন খাঁ বলেন, আগে ১ বৈশাখ নতুন খাতার পুজোয় পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দর্শনার্থীদের শরবত ও মিষ্টি বিতরণ করা হত। তবে, বর্তমানে কেবল পুজোর প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও নতুন বাংলা ক্যালেন্ডার বিতরণ করা হয়।
পুরোহিত বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ও শান্তনু মুখোপাধ্যায় বলেন, নতুন খাতার পুজোয় বিশেষ উপাচার হিসাবে রুপোর কয়েন দিয়ে মেটে সিঁদুরের ছাপ দেওয়া হয়। পুজোর উপকরণ হিসাবে পান, দুর্বা, ধানের পাশাপাশি নৈবেদ্য হিসাবে ফল থাকে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর নামে সংকল্প করা হয়। এছাড়াও বিষ্ণুপুরের সমস্ত ব্যবসায়ীদের মঙ্গলকামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। গরমের কারণে ১ বৈশাখ থেকে একমাস ব্যাপী রাধা দামোদরের বিগ্রহ শালগ্রাম শিলাকে পেতলের নৌকায় ভাসানো হয়। শীতল ভোগ হিসাবে বেলের সরবত দেওয়া হয়। এছাড়াও নিত্যপুজো হয়।
আয়োজকদের মধ্যে সিদ্ধেশ্বর খাঁ ও অনিরুদ্ধ খাঁ বলেন, কোনো শুভ কাজে যেমন দেবতার কাছে আশীর্বাদ নেওয়া হয়। বিয়ের শাঁখা ও নোয়া, বিয়ের কার্ড পর্যন্ত আগে কুলদেবতার কাছে নামিয়ে আশীর্বাদ নেওয়া হয়। সেই মতো নতুন বছরে ব্যবসা শুরুর আগে দেবতার কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়। সেই উপলক্ষ্যে নতুন খাতার পুজোর আয়োজন করা হয়। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় খাঁ পরিবার শহরের শাঁখারিবাজারে বসবাস করতেন। সেখানেই পারিবারিক দুর্গামণ্ডপ এবং কুলদেবতা রাধাদামোদরের মন্দির রয়েছে। পরবর্তীকালে পরিবার বিভক্ত হয়ে পোকাবাঁধ সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। বর্তমানে ২০টিরও বেশি পরিবারে শতাধিক সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন চাকুরিজীবী থাকলেও বেশির ভাগই বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। চা, বেকারি, গ্রোসারি, বিড়ি, ট্রান্সপোর্ট সহ বিভিন্ন ব্যবসা করেন। তাই তাঁদের কাছে নতুন খাতার আলাদা মর্যাদা রয়েছে। লালশালুতে বাঁধা নতুন খাতায় পুজো দিয়ে তাঁরা নতুন বছরের ব্যবসা শুরু করেন। পুজোয় পুরুষদের পাশাপাশি পরিবারের শিশু ও  মহিলারাও শামিল হন।

সম্পর্কিত সংবাদ