নবাব ভট্টাচার্য: এই মূহূর্তে ভারতবর্ষের ফুটবল নিয়ে আলোচনা করার থেকে খারাপ আর কিছুই হতে পারে না। খবরের কাগজে দেখলাম, মাত্র দেড় লক্ষের জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও ২০২৬ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর সেখানে আমাদের দেশ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৪২ নম্বরে নেমেছে। দু’দিন আগেই বাংলাদেশের কাছে হারের পরই সর্বত্র গেল গেল রব উঠেছে। তবে এই অবক্ষয় কিন্তু রাতারাতি হয়নি। পদস্খলন শুরু হয় অনেক আগেই। ফলে ক্রমশ দেশের ফুটবল পুরো ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে। আসলে আইএসএলের হাত ধরে যে দিবাস্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছিলেন ফুটবল হাউসের কর্তারা, তা আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে একঝাঁক ক্ষমতালোভী মানুষ শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থরক্ষা করতেই ব্যস্ত ছিল। কীভাবে নিজের আখের গোছানো সম্ভব, সেদিকেই নজর তাদের। তাই যা হওয়ার তাই হয়েছে। ভারতীয় ফুটবলের অন্তর্জলি যাত্রায় পা মেলানো উচিত স্বার্থান্বেষী ফেডারেশন কর্তাদের।
আই লিগের সময় ফুটবলটা নির্দিষ্ট সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে চলত। প্রতিটি ক্লাব যথাযথ ফুটবলার তুলে আনার উপর জোর দিত। ছিল সঠিক পরিকাঠামো। তবে হঠাৎই রিলায়েন্সের কাছে দেশের ফুটবলটা বেচে দিলেন তৎকালীন সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেল। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হল দু’টি রাজ্য। এক বাংলা। আর দ্বিতীয় গোয়া। একটা সময় গোয়া থেকে পাঁচটি দল আই লিগে অংশগ্রহণ করত। তবে আইএসএল আসতেই ভারতীয় ফুটবল থেকে হারিয়ে গেল সালগাওকর, স্পোর্টিং ক্লুব দ্য গোয়া, ভাস্কোর মতো ক্লাব। আর বাংলায় তো ইস্ট বেঙ্গল-মোহন বাগান ছাড়া বাকি সবাই দুয়োরানি। ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির স্বার্থে বেশ কিছু নিয়ম চালু করেছিল এএফসি। অথচ আমাদের দেশের অপদার্থ কর্তারা সেই নিয়মকে হাতিয়ার করেই দেশের ফুটবলকে হত্যা করল। কী অদ্ভুত নিয়ম, ক্লাব লাইসেন্সিং শর্তাবলী পূর্ণ করতে না পারায় দল শীর্ষ লিগে খেলতে পারবে না। অথচ যারা আইএসএলে দল নামালো, তাদের না রয়েছে কোনও অ্যাকাডেমি, না কোনও যুব দল। শুধুমাত্র আইএসএলকেই প্রচারের আলোয় রাখতে চেয়েছেন কর্তারা। শুধুই গাছের মাথায় সার দেওয়া হল, অথচ গোড়ায় কিছুই নেই। তাহলে তো গাছ একদিন ভেঙে পড়বেই। ভারতীয় ফুটবলের অবস্থা এখন সেরকম। মনে রাখতে হবে, জাতীয় দলের পারফরম্যান্স উন্নতি না করে দেশের ফুটবলকে বাঁচানো অসম্ভব। এখনকার কর্তাদের সেই সদিচ্ছা কোথায়? তারা শুধুই নিজের গদি বাঁচাতে ব্যস্ত। নাহলে কোন দুঃখে ফেডারেশনের অর্থ ব্যয় করে সন্তোষ ট্রফির ফাইনাল আয়োজিত হবে সৌদি আরবে? আসলে এরা ভাবে দেশের সবাই মূর্খ আর ওরা একা চালাক। সেই সঙ্গে চলছে এজেন্ট রাজ। আর ঠান্ডা ঘরে বসে ফুটবল চালাচ্ছেন সিইও নামক কিছু ফুটবলবোদ্ধা। যাঁরা কখনও বল পায়ে পর্যন্ত ঠেকাননি। এখনও সময় রয়েছে এই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর। না হলে আরও কলঙ্কিত হবে ভারতীয় ফুটবল।