সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: ১৫ মিনিটের প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে মিনিট পাঁচেক খেলা হওয়ার পরেই লম্বা বাঁশি রেফারির! হোটেল ছেড়ে মেসির কনভয় যুবভারতীর পথে। অতএব খেলা বন্ধ। শুধু কি তাই? মোহন বাগান ও ডায়মন্ডহারবার এফসি’র প্রথম একাদশে ১৪ জন ফুটবলারকে গুঁজে দিলেন উদ্যোক্তারা। ফান গেমের নামে ছেলেখেলা। দুর্দশার তখনও অনেক বাকি। দু’দলের ফুটবলারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা কিংবদন্তির। হাসিমুখে লিও এগোলেন সেন্টার সার্কেলের দিকে। কিন্তু হ্যাংলাদের দাপটে সব চৌপাট। দুই প্রধানে খেলা এক অভিজ্ঞ ফুটবলার ছিটকে গেলেন রামধাক্কায়। এক প্রাক্তন মিডিওকে প্রবল গতিতে ছিটকে জায়গা নিলেন পদস্থ আমলা। আসলে শতদ্রু দত্তরা কখনও বলে পা দেননি। ঘামে ভেজা জার্সি, লড়াইয়ের মূল্য তাঁরা বুঝবেন কী করে? বিজনেস টাইকুনদের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে পকেট ভরানোই এই স্পোর্টস মাফিয়ার লক্ষ্য। তাই ফুটবলের মঞ্চে ব্রাত্য রইলেন ফুটবলাররাই।
এতে বাকিরা বিরক্ত হলেও কিছুই যায় আসে না। ডায়মন্ডের হয়ে ম্যাচ খেললেন দেবজিৎ ঘোষ। প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার বিস্মিত। বললেন, ‘বিশৃঙ্খলার দায় উদ্যোক্তাদের নিতেই হবে। কোনও ক্ষমা নেই। গোটা দেশের কাছে মুখ পুড়েছে রাজ্যের। এমনটা কোনওনমতেই কাম্য নয়।’ রীতিমতো ফুঁসছেন দেবজিৎ। তাঁর সংযোজন, ‘এমি মার্তিনেজের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। তাই মেসির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কে কার কথা শোনে?’ শুধু দেবজিৎই নন, অনেকেরই ধারণা, মেগা ইভেন্ট সফল করার ন্যূনতম পরিকল্পনাই ছিল না। মেসির সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে হিরো হওয়ার লোভ সামলানো সত্যিই কঠিন। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। ইয়ে তো হোনাহি থা।
যুবভারতীর মেসি শো’য়ে আমন্ত্রণ পাননি কোনও প্রাক্তন। বিশৃঙ্খলার কথা শুনে সুব্রত ভট্টাচার্য অবাক। তাঁর স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল পেলে ম্যাচ। ১৯৭৭ সালে ইডেনে মোহন বাগান বনাম কসমস ম্যাচ ঘিরে উত্তাল হয়েছিল কলকাতা। কিন্তু আয়োজনে কোনও ত্রুটি ছিল না। সুব্রতর স্মৃতিচারণ, ‘ধীরেন দে সুচারুভাবে সামলেছিলেন প্রতিটা মুহূর্ত। এমনকী গ্র্যান্ড হোটেলে জকমালো পার্টিও ছিল ত্রুটিহীন। আসলে ওঁরা ফুটবলকে ভালোবাসতেন।’ আর এক প্রাক্তন অলোক মুখার্জিও মর্মাহত। আপশোস, ‘হুডখোলা জিপে স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করানো যেত। আসলে দর্শকদের কথা ভাবাই হয়নি। সবুজ মাঠে গেরুয়া পতাকার আস্ফালনও চোখে লাগে। রাজনীতি নয়, ফুটবল দেখতে চাই।’