জেমস সিং: আমার ছেলে নেলসন ফুটবলার হতে চায়। দু’চোখে আইএসএল খেলার স্বপ্ন। মণিপুরের নেরোকা অ্যাকাডেমিতে ট্রেনিংও নিচ্ছে। ফুটবলার হিসাবে ও প্রতিষ্ঠিত হলে সবচেয়ে বেশি খুশি হব আমিই। তাই সুযোগ পেলে ওকে কলকাতা পাঠাতে চাই। ওখানকার ঘরোয়া লিগ ফুটবলার তৈরির পাঠশালা। ময়দানে পা না রাখলে ফুটবল জীবন অসম্পূর্ণ। ইস্পাতকঠিন মানসিকতা তৈরি করতে কলকাতা লিগের জুড়ি মেলা ভার। সামান্য ফুটবল খেলার সুবাদে ময়দানের মাহাত্ম্য আমার অজানা নয়।
তখনও ঠিকঠাক গোঁফের রেখা ওঠেনি। টাটা ফুটবল অ্যাকাডমি থেকে আমায় সই করায় মোহন বাগান। প্রথম দিনের স্মৃতি ছবির মতো স্পষ্ট। শুধু অনুশীলন দেখতেই হাজির প্রচুর সমর্থক। মাঠ ছাড়ার সময় সবাই বলতেন, ‘ভালো করে খেলতে হবে কিন্তু।’ এই তাগিদ, মোটিভেশন অন্য কোথাও পাইনি। লিগের ম্যাচেও ঠাসা গ্যালারি। প্রথমার্ধে গোল না হলেই টেনশন। প্রবল প্রত্যাশার চাপ সামাল দেওয়া ফুটবলারের আসল পরীক্ষা। জিতলে নায়কের মর্যাদা মিলবে। পয়েন্ট খোয়ালে সর্বনাশ। বৃষ্টিভেজা ভারি মাঠে খেলার জন্য বিশেষ টেকনিক রয়েছে। শরীরের ভারসাম্য রাখা কঠিন। নন কিকিং ফুট ঠিক জায়গায় রাখা আরও শক্ত। হাতে-কলমে সব দেখিয়ে দিতেন কোচ সুব্রত ভট্টাচার্য। ডার্বিতে জাল কাঁপানোর পর সমর্থকদের ভালোবাসার অত্যাচার ভুলব না কখনও। লিগে বিএনআর ম্যাচের কথা মনে পড়ে। প্রায় মাঝমাঠে বল ধরে ছ’জনকে কাটিয়ে গোল করি। খেলার পর মোহন বাগান সমর্থকদের কাঁধে চেপে তাঁবুতে পৌঁছই। পরদিন অনুশীলনে সেই ছবি উপহার দিয়েছিলেন এক ফটোগ্রাফার। আক্ষেপ হয়, কালের নিয়মে তা হারিয়ে গিয়েছে।
ঘরোয়া লিগের সেই জনপ্রিয়তাও তো এখন স্রেফ গল্পকথা। পুরনো কথা মনে পড়লে আপশোস বাড়ে। কেন এমন হল? ব্যক্তিগত মত, সিনিয়র দলের ফুটবলার না খেলানোয় আকর্ষণ কমছে। এমন সিদ্ধান্ত একেবারেই অবাস্তব। বাইচুং, ব্যারেটোর মতো ফুটবলার ঘরোয়া লিগ খেলেছে। তাতে কোনও অসুবিধা হয়নি। এখন সিনিয়রদের তুলোয় মুড়ে রেখে কী লাভ? বরং কয়েকজন তারকাকে লিগে খেলানো উচিত প্রতিটা দলের। এতে জুনিয়র ফুটবলাররা অনুপ্রাণিত হবে। তাছাড়া বিদেশি ফুটবলার খেলানোতেও নিষেধাজ্ঞা। অবাস্তব, আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে ডুবছে কলকাতা ফুটবল। আমার মতো ভিন রাজ্যের ফুটবলাররা কলকাতা লিগের জন্য মুখিয়ে থাকতো। লিগের আকর্ষণ কমে যাওয়া মানে সেই মঞ্চটাই হারিয়ে যাওয়া।