Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে থাকাই লক্ষ্য ফুটবলার হরেরাম মুর্মুর

তখন অনেক রাত। বাকসা ফুটবল অ্যাকাডেমির চিলতে ঘরে আলো জ্বলতে দেখে কর্তারা বিরক্ত। আধখোলা দরজায় চোখ রাখতেই অবাক কাণ্ড।

ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে থাকাই লক্ষ্য ফুটবলার হরেরাম মুর্মুর
  • ২৫ জুলাই, ২০২৫ ১৫:০৭
Prefer us on Google

শিবাজী চক্রবর্তী  কলকাতা

Advertisement

তখন অনেক রাত। বাকসা ফুটবল অ্যাকাডেমির চিলতে ঘরে আলো জ্বলতে দেখে কর্তারা বিরক্ত। আধখোলা দরজায় চোখ রাখতেই অবাক কাণ্ড। খাটে ইতস্তত ছড়ানো বইপত্র। জাবদা খাতায় নোট লেখা চলছে। মলাটে কালো অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে হরেরাম মুর্মুর নাম। ঘরোয়া লিগে রেলওয়ে এফসি’র ডিফেন্ডার এই আদিবাসী যুবক। ফুটবলই তাঁর অক্সিজেন। আর চোখের তারায় চিকিৎসক হওয়ার নেশা। আপাতত নিটের গণ্ডি টপকানোই হরেরামের লক্ষ্য।
পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম গিতিংলহর। মাটির বাড়ি, টিনের চাল। অভাবের আঁচড় সংসারে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। ডাক্তার-ওষুধ স্রেফ বিলাসিতা। অসুস্থ হলে দশ কিলোমিটার দূরে বলরামপুর হাসপাতালই ভরসা। গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান হরেরাম। আদিবাসী তরুণের সম্বল তাগিদ এবং জেদ। গ্রামের স্কুলে হাতেখড়ি। এরপর পরীক্ষা দিয়ে সুযোগ পায় একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে। পড়াশুনার সঙ্গে ফুটবল ট্রেনিং। খেলা দেখে শিক্ষকরা মুগ্ধ। সময়ের সঙ্গেই নাম ছড়িয়ে পড়ে হরেরামের। চলতি মরশুমের শুরুতেই স্বপ্নপূরণ। ট্রায়ালের পর রেলওয়ে এফসি লুফে নেয়। কিন্তু পুরুলিয়ার বাড়ি থেকে প্রতিদিন যাতায়াত অসম্ভব। হরেরামের ঠিকানা তাই বাকসার অ্যাকাডেমি। ফুটবল বুট, জার্সির পাশাপাশি বইয়ে ঠাসা কিটব্যাগ। হাড়ভাঙা প্র্যাকটিসের পর ঘুমে ঢুলে আসে চোখ। এত ধকল সইবে কীভাবে? তবু জেগে থাকে স্বপ্ন। হরেরাম অস্ফুটে বলেন, ‘ঘুমিয়ে পড়লে ডাক্তার হতে পারব না দাদা।’ লাল টুকটুকে স্বপ্ন হাতুড়ির মতো গুঁড়িয়ে দিতে চায় সব প্রতিকূলতা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ