Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

সব খেলার সেরা ফুটবল

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৩ শুরু হতে চলেছে, যা বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা তৈরি করছে। খেলাধুলার মাধ্যমে ঐক্য ও আনন্দের উপলক্ষ। বিস্তারিত পড়ুন।

সব খেলার সেরা ফুটবল
  • ১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রধান শিক্ষকের কলমে

Advertisement

‘অসতো মা সদ্গময়; তমসো মা জ্যোতির্গময়; মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়; ওম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।’ উপনিষদের এই শাশ্বত বাণীকে পাথেয় করে, শিক্ষার আলোকবর্তিকা প্রজ্বলনে ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত ডায়মন্ড হারবার ভারত সেবাশ্রম সংঘ প্রণব বিদ্যাপীঠের অবদান অনস্বীকার্য। আদর্শ নৈতিক শিক্ষার প্রচার ও প্রসার এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। দেহে-মনে-প্রাণে সুস্থ, সবল ও আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত ছাত্র সমাজ গড়ে তাদের সৃজনের সারথি রূপে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার জন্য ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ আজীবন সংগ্রাম করে গিয়েছেন। তাঁরই অনুসৃত নীতি ও আদর্শকে পাথেয় করে ভারত সেবাশ্রম সংঘের তদানীন্তন যুগ্ম সম্পাদক স্বামী যোগানন্দজি মহারাজ ১৯৪৯ সালে উদ্বাস্তু ছেলেমেয়ে ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ডায়মন্ড হারবার সেবাকেন্দ্রে জুনিয়র হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৬৩ সালে তা মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর থেকে এই বিদ্যালয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশেষ বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারি অনুমোদনে ২০১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই বিদ্যালয় কলা ও বিজ্ঞান বিভাগ সহ উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়েছে। ছাত্রসমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্ববান ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বর্তমান শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদ্যালয়ে এনসিসি চালু হয়েছে। সূচনা লগ্ন থেকে সংঘের বহু শীর্ষস্থানীয় সন্ন্যাসী এই বিদ্যালয়কে এক অনন্য মাত্রায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট হয়েছেন। বিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে অভিভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। ছাত্রদের পড়াশোনায় উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার জন্য সহৃদয় মানুষের দানে বিদ্যালয়ে প্রবর্তিত হয়েছে বহু বৃত্তি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়মানুবর্তিতা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষাদান, ছাত্রদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় এই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা প্রায় ১৩০০। খ্যাতির বিড়ম্বনায় দিন দিন বাড়ছে ছাত্র ভর্তির চাপ।
—কমলকুমার পাত্র, প্রধান শিক্ষক
     সংকলক: শম্পা সরকার

উত্তেজনায় ফুটছি

বিশ্বকাপ! ফুটবল বিশ্বকাপ! প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মানুষের মনে সাড়া ফেলে দেয়।  যেকোনো খেলা মানেই অন্য ধরনের অনুভূতি। আর যখন তা ফুটবল বিশ্বকাপ তখন তো তার আমেজই আলাদা। এ এক আবেগ, উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনার মহোৎসব। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আমিও এই বিশ্বকাপের আমেজ ও উত্তেজনা শিরায় শিরায় অনুভব করছি। নিজের প্রিয় খেলোয়াড়দের জাদুকরী খেলা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ বহু খ্যাতনামা তারকার শেষ বিশ্বকাপ। তার জন্য যেমন বেদনা অনুভব করছি, তেমনই নতুন খেলোয়াড়দের খেলা দেখার জন্যও প্রবলভাবে আগ্রহী। প্রত্যেক ফুটবলপ্রেমীর মতো আমারও প্রিয় ফুটবল দল রয়েছে। সরাসরি মাঠে গিয়ে হয়তো নয়, টিভির সামনে বসেই নিজের প্রিয় দল আর্জেন্তিনার জার্সি পরে আমিও অন্যান্যদের মতোই তাদের জন্য প্রার্থনা করব।
—অভীক কাঁড়ার, দশম শ্রেণি

বিশ্বকাপ হৃদয়ের উচ্ছ্বাস
ফুটবল শুধু পায়ের খেলা নয়, এটি হৃদয়ের ভালোবাসা ও আবেগের এক জীবন্ত প্রকাশ। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় খেলা। এর গতি, উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তাই মানুষকে বারবার এই খেলার প্রতি আকৃষ্ট করে। মাঠে খেলোয়াড়দের নিখুঁত পাস, মনোমুগ্ধকর ড্রিবলিং এবং গোলের রোমাঞ্চকর মুহূর্ত দর্শকদের আনন্দে ভরিয়ে তোলে। ফুটবল শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি দলগত চেতনা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মজার শিক্ষা। পাড়ার মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় আনন্দ যেমন অপরিসীম। তেমনই প্রিয় দলের জয় সমর্থকদের হৃদয়ের উচ্ছ্বাসের ঢেউ তোলে। বর্তমানে ভাষা ধর্ম ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সমগ্র বিশ্ব ফুটবল খেলার মজা নিচ্ছে। খেলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন রচিত হয়েছে। তাই ফুটবলের জনপ্রিয়তা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
—ময়ূখ মান্না, সপ্তম শ্রেণি

গতির আনন্দ
ফুটবল হল বিশ্বের জনপ্রিয় খেলাগুলির অন্যতম। ফুটবল খেলার মূল আকর্ষণ লুকিয়ে আছে এর তীব্র উত্তেজনা ও গতিময়তার মধ্যে। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিটি মুহূর্ত রোমাঞ্চকর। সবচেয়ে বড়ো উন্মাদনা তৈরি হয় গোল করার মুহূর্তে— যা খেলোয়াড় ও দর্শকদের একযোগে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়। এটি কেবল একটি খেলা নয়, বরং দলগত একতা ও বন্ধুত্বের প্রতীক। মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই আনন্দের মূল ভিত্তি। ফুটবল খেলার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর হয়। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই বল নিয়ে নামলে এই সর্বজনীন আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব।
—সৈকত মজুমদার, ষষ্ঠ শ্রেণি

মজার খেলা ফুটবল
 ফুটবল খেলার মজা অতুলনীয় এবং এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি খেলা। ফুটবল খেলার আনন্দ ও ভালোলাগা অনির্বচনীয়। ফুটবল মানেই এক অন্যরকম উদ্দীপনা। ফুটবল মানেই পেলে-মারাদোনা-মেসি-রোনাল্ডো। ফুটবল মানেই মাঠ ভরতি দর্শকের তুমুল করতালি। সবুজ ঘাসে ঢাকা বিশাল মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে একটি বলের পেছনে ছুটে বেড়ানোর মধ্যে যে অনাবিল আনন্দ লুকিয়ে আছে, তা অন্য কোনো খেলায় পাওয়া মেলা ভার। এই খেলায় অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল খেলোয়াড়দের গতি, উপস্থিত বুদ্ধির প্রতিফলন, শারীরিক ও স্নায়ুর ক্ষমতার মিশ্রণ। সারাক্ষণই থাকে চরম উত্তেজনা, যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝার উপায় থাকে না জয়ের মালা কার গলায় উঠবে। মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি করা, নিখুঁত পাশে বল এগিয়ে নেওয়া ও সব বাধা পেরিয়ে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দেওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দল বেঁধে যে উল্লাস ও আলিঙ্গন করা হয়, তা প্রতিটি খেলোয়াড়ের মনে এক অদ্ভুত তৃপ্তি আনে। শরীরকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখে। এমনকি আমাদের মধ্যে দলীয় সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে। হার-জিত যাইহোক না কেন মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত এক অবিস্মরণীয় আনন্দ ও মধুর স্মৃতি হয়ে রয়ে যায়।
—প্রত্যুৎস্মিত হালদার, অষ্টম শ্রেণি

বাঙালির ঘরে উৎসব
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সাধারণ মানুষের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। চার বছর পর অনুষ্ঠিত এই বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রতিটি বাঙালি ঘরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানেই এখন কেবলই প্রিয় দলের শক্তির হিসাব নিকাশের তুমুল আড্ডা। মাঠের প্রতিটি আক্রমণ, গোল আর রেফারির বাঁশির সঙ্গে মিশে থাকে কোটি কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন। এবারের আসরটি আরও বেশি জমজমাট, কারণ ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রেকর্ড ৪৮টি দল এই বিশ্বমঞ্চে লড়াই করছে। মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত তিন আয়োজক দেশের প্রতীকে সাজানো অফিশিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’। উন্নত প্রযুক্তি খেলাকে দেবে এক নতুন গতি ও রোমাঞ্চ। সব ভেদাভেদ ভুলে ফুটবলপ্রেমীদের এই মিলন মেলা প্রমাণ করে যে, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধার এক অনন্য উৎসব।
—দেবজ্যোতি মণ্ডল, নবম শ্রেণি

সবচেয়ে বড়ো বিশ্বকাপ
ফুটবল বিশ্বকাপ চিরকালই মানুষের মনে এক অকৃত্রিম উন্মাদনার সৃষ্টি করে এসেছে। সেই ১৯৩০ সাল থেকেই ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। আমরা প্রায়শই পাড়ায় পাড়ায় ফুটবল নিয়ে মাতামাতি দেখতে পাই, কিন্তু বিশ্বকাপের সময় সেই উচ্ছ্বাসে যেন এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। এবার বিশ্বকাপের আসর বসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। মোট ১৬টি স্টেডিয়ামে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এটি সবথেকে বড়ো ফুটবল বিশ্বকাপ হতে চলেছে। যা ৩২টির পরিবর্তে ৪৮টি টিম নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেক্সিকো সিটির এস্টাডি অ্যাগটেকা স্টেডিয়ামে সেই উন্মাদনা শুরু হয়ে গিয়েছে, যা শেষ হবে নিউ ইয়র্কের মেট লাইফ স্টেডিয়ামে।
—অরিত্র বৈদ্য, একাদশ শ্রেণি

শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া উৎসব
শুরু হয়ে গিয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ বা ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ’। একজন ফুটবল ভক্ত হিসাবে চার বছর অন্তর আয়োজিত এই বিশ্বকাপ নিয়ে আমার উত্তেজনা তুঙ্গে। রাত জেগে ফুটবল খেলা দেখা এবং তা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করার ব্যাপারে আমি খুবই উৎসাহিত। কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে প্রথমবার ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করছে, যা এই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ব্যাপার। এই ফুটবল বিশ্বকাপ অনেক ফুটবল তারকার যেমন শেষ বিশ্বকাপ, তেমনই অনেকের প্রথম। বাড়িতে বসে বড়ো তারকাদের খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। আমার পছন্দের দল ব্রাজিল। একটি জার্সিও কিনেছি। আমার প্রিয় দল যাতে এই বিশ্বকাপে জয়ী হয়, তার জন্য মনে-প্রাণে প্রার্থনা করব।
—আদৃত পুরকাইত, দশম শ্রেণি

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ