নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি তৈরি হচ্ছে মালদহে। ইংলিশবাজার ব্লকের পিয়াসবাড়িতে ইতিমধ্যে প্রকল্পের জমি চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। জেলার ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরির মাধ্যমে স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি করা খাদ্যের মান যাচাই করা সম্ভব হবে। খুব শীঘ্রই ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) এবং রাজ্যের তরফে অনুমোদন আসবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, এটি উত্তরবঙ্গের মধ্যে দ্বিতীয় ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি হতে চলেছে। যা রাজ্যের মধ্যে চতুর্থ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিস্ট্রিক্ট লেভেল অ্যাডভাইসরি কমিটি অন ফুড সেফটি অ্যন্ড ডায়েটসের বৈঠক হয়। সেখানেই বিষয়টি আলোচিত হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে ল্যাবরেটরির জমি চিহ্নিতকরণের বিষয়টিও জানানো হয়।
মালদহ সহ গৌড়বঙ্গ জুড়ে ভেজাল খাবারের রমরমা দীর্ঘদিনের। যা নিয়ে বহু সময় নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। মালদহে ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি তৈরি হলে স্থানীয় ভেজাল খাবারের কারবার রোখা অনেক সহজ হবে। প্রশাসনিক কর্তারা জানান, মালদহের বিভিন্ন ধরনের মশলা, ঘি, দুধ, ছানা, মিষ্টি সহ খাবারে মেশানো রং ইত্যাদির মান যাচাই করতে প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে থাকে। বিভিন্ন দোকান, রেস্তরাঁ, কারখানা থেকে সংগৃহীত খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য কলকাতার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হতো। এর ফলে ল্যাবে পরীক্ষা করে রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত অনেকটা সময় নষ্ট হতো। সেজন্য মালদহে ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। এবার সেটা পূরণ হতে চলেছে।
মালদহের খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক প্রশান্ত বৈদিক জানান, আগে এখানকার বিভিন্ন খাবারের সংগৃহীত নমুনা কলকাতায় পাঠাতে হত। এখানে ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি তৈরি হলে দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া যাবে।
এদিকে মাছ সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে জেলায় ল্যাবরেটরি না থাকাটা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে বণিকসভার দাবি। কারণ বাইরের দেশ থেকে প্রসেসড ফুড বা কাঁচা খাদ্য সামগ্রী এদেশে আমদানির সময় তা সর্বপ্রথম ল্যাবরেটরিতে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়। মালদহের মহদিপুর স্থলবন্দরের কাছাকাছি এই ধরনের ল্যাবরেটরি না থাকায় অনেক সময় সমস্যায় পড়তেন ব্যবসায়ীরা।
মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, মালদহে ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। এখানে যদি ল্যাব হয়, বহু ক্ষেত্রেই আমাদের সুবিধা হবে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। অন্যদিকে, খুব শীঘ্রই আমে কার্বাইড ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা জারি করা নিয়ে সচেতনতামূলক বৈঠক ডাকতে চলেছে জেলা প্রশাসন।