নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাসত: প্রশাসনের বারংবার আবেদনেও তাঁদের মধ্যে কোনও হেলদোল ছিল না। ধরপাকড় শুরু হলে কেউ কেউ জরিমানার টাকা গুনতে বাধ্য হয়েছেন। তারপরও খাবারের দোকান, ছোট-মাঝারি রেস্তোরাঁ ইত্যাদি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ফুড লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করার তেমন কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি ব্যবসায়ীদের বড় অংশের মধ্যে। কিন্তু অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি সংস্থার কড়া নিয়মের গেরোয় তাঁরাই এখন ছুটছেন ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (ফ্যাসাই) লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট জোগাড় করতে। কারণ, লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট না থাকলে কোনও ফুড ডেলিভারি সংস্থা ওই দোকান থেকে খাবার তুলতে পারবে না। কলকাতা থেকে জেলা শহর—ছবিটা সর্বত্র কমবেশি এক। কোথাও গতবারের তুলনায় এ বছর ২০০০, কোথাও আবার ৫০০০, এমনকি ১০ হাজারেরও বেশি ফুড লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। সরকারি তথ্যেই স্পষ্ট হয়েছে বিষয়টি।
এই লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট পেতেই আবেদনের হিড়িক পড়ে গিয়েছে জেলায় জেলায়। একাধিক ছোটো ও মাঝারি রেস্তোরাঁর মালিক বলছেন, ব্যবসা এমনিতেই মন্দা যাচ্ছে। তার উপর ডেলিভারি সংস্থাগুলির যা কড়াকড়ি, তাতে প্রতি পদে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই লাইসেন্স করাতে বাধ্য হয়েছি। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পাঁচ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের মালিক আবেদন করে লাইসেন্স পেয়েও গিয়েছেন। গত বছর এই সময় পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল সাড়ে তিন হাজারের কাছাকাছি। উত্তর ২৪ পরগনায় এ বছর ১০ হাজারের বেশি ব্যবসায়ী লাইসেন্স অথবা সার্টিফিকেট পেয়েছেন। যা গতবারের থেকে অনেকটাই বেশি। কলকাতা পুরসভা এলাকাতেও এ বছর ৪২ হাজারের বেশি লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। গতবার ছিল ৩০ হাজার মতো। সোনারপুর থেকে বারাসত, বারুইপুর থেকে বসিরহাট—সর্বত্র এই প্রবণতা স্পষ্ট।
জয়নগর এলাকার এক মোমো দোকানের মালিক বলছিলেন, ‘চারদিকে অনেক রেস্তোরাঁ খুলেছে। মানুষ এখন বাড়িতে বসে অর্ডার করছে। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে গেলে যা করণীয়, সেটাই করতে হয়েছে।’ বারাসতের এক রেস্তোরাঁ মালিক বলেন, ‘আগেই লাইসেন্স করিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। তখন গুরুত্ব দিইনি। বিক্রিবাটা বাড়াতে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার সুবিধা নিতেই হত। কিন্তু এসব ডেলিভারি সংস্থা লাইসেন্স ছাড়া ওদের অ্যাপে দোকানের নাম নথিভুক্ত করবে না।’ কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ সূত্রে দাবি, শুধু বিক্রিবাটা বৃদ্ধির জন্য নয়, বহু দোকানদার জরিমানার ভয়েও লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করছেন।