নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: খাদ্য সুরক্ষায় আরও কড়া নজর। হোটেল, রেস্তরাঁর পর এবার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের নজরে মেলা। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে মেলার আসরে বসা দোকানগুলিতে কড়া নজর রাখা হবে। এক্ষেত্রে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের পাশাপাশি ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরও আসরে নামতে চলেছে। বলাবাহুল্য যৌথভাবে খাদ্য সুরক্ষায় নজরদারি চালানো হবে। বুধবার বীরভূম জেলার প্রশাসনিক ভবনে ডিস্ট্রিক্ট লেভেল অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠকে এনিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসকের (জেনারেল) উপস্থিতিতে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, মেলায় খাবার দোকানগুলির স্পট রেজিস্ট্রেশন করা হবে। সেইসঙ্গে কোনও ব্যবসায়ী খাবারে রং মেশাচ্ছেন কিনা সেদিকেও নজরদারি চালানো হবে। এবিষয়ে জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-২ মৃণালকান্তি ঘোষ বলেন, ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে আগামীতে মেলাগুলিতেও নজরদারি চালানো হবে। খাবারের গুনমান যাচাইয়ের পাশাপাশি এফএসএসআই অনুমোদনবিহীন কোনও দ্রব্য ব্যবহার করছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
খাদ্য সুরক্ষায় নজর দিতে জেলাজুড়ে হোটেল, রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকানেও অভিযান চালানো হচ্ছে। একাধিক অভিযানে খাবারে শিল্পে ব্যবহৃত রং মেশানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। সেক্ষেত্রে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা ব্যবসায়ীদের সতর্কও করেছেন। আগামীতে একই ভুল নজরে এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে এবার হোটেল, রেস্তরাঁ কিংবা মিষ্টির দোকান ছাড়াও মেলায় বসা দোকানেও নজরদারি চালাবে জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার থেকে শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলে মেলার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আগেই খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর যৌথ বৈঠক করবে। প্রয়োজনে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের তরফে রেজিস্ট্রেশন মেলার আয়োজন করা হবে। সেখান থেকেই মেলায় বসা ব্যবসায়ীদের স্পট রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে হকারদেরও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে। সবটাই বিনা খরচে হবে। মূলত কোন কোন ব্যবসায়ী মেলায় অংশ নিচ্ছেন ওই রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তা জানা যাবে। এছাড়াও কোনও ব্যবসায়ী এফএসএসআই অনুমোদনবিহীন কোনও দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে মেলায় প্রবেশ করছেন কিনা তাও দেখা হবে। কোনও ব্যবসায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণ কিংবা বাসি খাবার বিক্রি করছেন কিনা তাও দেখা হবে। এক কথায়, মেলাতেও যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভেজাল খাবার পান তা নিশ্চিত করাই খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের মূল লক্ষ্য।