Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে উত্তরের জঙ্গলে হাতি, গন্ডার ও বাইসনের পছন্দের ঘাস রোপণ শুরু

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে উত্তরের জঙ্গলে হাতি, গন্ডার ও বাইসনের পছন্দের ঘাস রোপণ শুরু
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে হাতি, গন্ডার, বাইসনের পছন্দের ঘাস রোপণ শুরু করল বনদপ্তর। সম্প্রতি উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বনকর্তাদের নির্দেশ দেন, জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের জন্য যাতে পর্যাপ্ত খাবার থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। সুতরাং জঙ্গলে যাতে বন্যপ্রাণীদের খাবারের কোনও ঘাটতি না হয়, তা দেখতে হবে। চলতি বর্ষার মধ্যে উত্তরের জঙ্গলে ৫৬২ হেক্টর জমিতে ঘাস রোপণের কাজ শেষ করে ফেলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ওই নির্দেশের পরই জলদাপাড়া, গোরুমারা সহ উত্তরের বিভিন্ন বনাঞ্চলে হাতি, গন্ডার, বাইসনের পছন্দের ঘাস রোপণের কাজে জোর দেয় বনদপ্তর। নার্সারিতে ঘাসের চারা তৈরির পর এবার তা জঙ্গলে রোপণের কাজ শুরু করে দিল তারা। বৃহস্পতিবার জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক নভোজিৎ দে বলেন, আমরা জঙ্গলে প্ল্যান্টেশন শুরু করে দিয়েছি। হাতি-গন্ডার, বাইসনের পছন্দের মোট ১২টি প্রজাতির ঘাস রোপণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, জলদাপাড়ায় ৩০০ হেক্টর জমিতে আমরা প্ল্যান্টেশন করব। তবে ওই এলাকা বাড়তেও পারে। উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) ভাস্কর জেভি বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা প্ল্যান্টেশনের কাজ শুরু করে দিয়েছি। বনমহোৎসব থেকে একাজে আরও জোর দেওয়া হবে। চলতি বর্ষার মধ্যে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া টার্গেট পূরণ করে ফেলতে পারব বলে আশাবাদী।

Advertisement

বনদপ্তর সূত্রে খবর, হাতির প্রিয় খাবার ঢেড্ডা, চেপ্টির মতো ঘাস। আবার মাধুয়া, মালসা প্রজাতির ঘাস পছন্দ গন্ডারের। সেইমতো জঙ্গলে ঘাস রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 
জলদাপাড়ায় ২০ হেক্টর জমিতে ঘাসের নার্সারি করা হয়েছে। সেখান থেকেই ঘাসের চারা নিয়ে গিয়ে রোপণ করা হচ্ছে জঙ্গলে। একইভাবে গোরুমারার জঙ্গলে প্ল্যান্টেশনের জন্য নার্সারি করা হয়েছে ধূপঝোরায়। জঙ্গলে ঠিকমতো ঘাসজমি তৈরি করা গেলে খাবারের খোঁজে হাতি, গন্ডার, বাইসনের লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ঘটনা কিছুটা হলেও যে কমবে তা স্বীকার করে নিয়েছেন বন আধিকারিকরা।
গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বলেন, গোরুমারা জাতীয় উদ্যানে তৃণভোজী বন্যপ্রাণীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের জোগানে আপাতত ৬০ হেক্টর জমিতে ঘাস রোপণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এলাকা আরও বাড়তে পারে। নার্সারিতে ঘাসের চারা তৈরির কাজ শেষ। শীঘ্রই আমরা জঙ্গলে প্ল্যান্টেশনের কাজ শুরু করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ