নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারির পরই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া মেটাতে তৎপর হলেন কাঁথির তৃণমূল নেতারা। বৃহস্পতিবার রাতে রামনগরে উত্তম বারিক ও দীপক সার মুখোমুখি বসেন। অভিমান সরিয়ে দীপক রামনগরে প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে রাজি হয়েছেন। অনেক রাতে এগরার শহর তৃণমূল সভাপতি জয়ন্ত সাউয়ের সঙ্গে দলের কাউন্সিলারদের মিটিংয়েও পৌরোহিত্য করেন উত্তম।
শুক্রবার অভিমান সরিয়ে চণ্ডীপুরে প্রার্থী উত্তমের সঙ্গেই নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে মিটিংয়ে বসেন প্রাক্তন বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি বসে প্রচারে ১০০শতাংশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলার অধীনে আটটি বিধানসভা রয়েছে। ২০২১সালে এর মধ্যে তৃণমূল ও বিজেপি চারটি করে আসনে জয়ী হয়েছিল। এবার বিজেপির দখলে থাকা খেজুরি, ভগবানপুর এবং কাঁথি উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূল ভালো জায়গায় রয়েছে। আবার, নিজেদের কোন্দলের জন্য এগরা, রামনগর ও চণ্ডীপুরে শাসকদল চাপে আছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দীঘায় একটি হোটেলে বেশ কিছু নেতা ও প্রার্থীদের নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বসেন। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে একটাও জেতা আসন যাতে হাতছাড়া না হয়-সেবিষয়ে কড়া নির্দেশ দেন।
ওই বৈঠকে রামনগরের প্রার্থী অখিল গিরি বলেছিলেন, রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দীপক সার প্রচারে নামছেন না। এরপরই দীপককে ভোটের কাজে নামানোর জন্য উত্তম বারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই রাতেই উত্তমবাবু রামনগরে দীপকের সঙ্গে বৈঠকে বসে তাঁকে এবিষয়ে রাজি করান।
বৈঠকে এগরার প্রার্থী তরুণকুমার মাইতি বলেছিলেন, শহর সভাপতি জয়ন্ত সাউয়ের সঙ্গে কাউন্সিলারদের কয়েকজনের দূরত্ব থাকায় সমস্যা হচ্ছে। সেই সমস্যা মেটানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়। রাতেই উত্তম বারিক এগরায় গিয়ে জয়ন্ত ও কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তৃণমূল প্রার্থী পীযূষকান্তি পণ্ডাকে সহযোগিতা করার জন্য দলের পটাশপুর-২ ব্লক সভাপতি মানস রায় ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি স্বপন মাইতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভগবানপুরের তৃণমূল প্রার্থী মানব পড়ুয়ার অভিযোগ ছিল, নির্বাচনি কমিটির চেয়ারম্যান হলেও বাসুদেববেড়িয়ায় উপপ্রধান দীপঙ্কর খাটুয়া নিজের অঞ্চল ছাড়া অন্যত্র সময় দিচ্ছেন না। এরপর শুক্রবারই এক্তারপুর এবং আড়গোয়ালে বুথ সভাপতি ও অঞ্চল সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে মানব পড়ুয়া, দীপঙ্কর খাটুয়া সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।ভগবানপুর-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি বরীন মণ্ডল খেজুরিতে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ভগবানপুর থেকে ঘনিষ্ঠদের সেখানে নিয়ে গিয়েছেন। তবুও ভগবানপুরে দলের কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিলেন বলে খবর ছিল। এনিয়ে অভিষেক তাঁকে সতর্ক করেন। শুক্রবার ভগবানপুর-১ ব্লকে একটি কর্মিসভায় প্রার্থী মানব পড়ুয়ার পাশাপাশি বরীন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠরাও উপস্থিত ছিলেন। মানববাবু বলেন, কিছু সমস্যা ছিল। তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনার পর তাড়াতাড়ি সমাধান হয়েছে।