Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লক্ষ্য নিরাপত্তা: ট্রেন পরিচালনায় দক্ষ কর্মী পেতে উৎকর্ষ কেন্দ্র বেলেঘাটায়

শিয়ালদহ ডিভিশনে ট্রেন পরিচালনার জন্য নতুন উৎকর্ষ কেন্দ্র বেলেঘাটায় চালু। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। বিস্তারিত পড়ুন।

লক্ষ্য নিরাপত্তা: ট্রেন পরিচালনায় দক্ষ  কর্মী পেতে উৎকর্ষ কেন্দ্র বেলেঘাটায়
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুর্শিদাবাদের রেলগেট দুর্ঘটনার ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। এই ব্যস্ততম ডিভিশনের প্রতিটি স্টেশনে নিরাপদ ট্রেন যাত্রা সুনিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ করল রেল। শিয়ালদহ ডিভিশন তাদের প্রথম ‘মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি ডিভিশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ (এমডিডিটিআই) চালু করল। কলকাতার বেলেঘাটায় তৈরি করা হয়েছে এই উৎকর্ষ কেন্দ্র। মূলত ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত নীচু স্তরের কর্মীদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে এখানে। অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন, ইলেকট্রিক্যাল এবং স্টোর বিভাগের কর্মীদের আধুনিক ট্রেন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতেই এই প্রয়াস বলে রেল কর্তাদের দাবি। ঘরে প্রশিক্ষণের প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এমডিডিটিআই ব্যবহারিক শিক্ষার নয়া দিগন্ত খুলে দেবে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। 

Advertisement

এখানে কর্মীদের কাজের নিরিখের উপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাতে তাঁরা যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল ‘লেভেল ক্রসিং ট্রেনিং ফেসিলিটি’। কর্মীরা এখানে দু’ধরনের লেভেল ক্রসিং গেট— ‘বুম ব্যারিয়ার গেট’ এবং ‘স্লাইডিং ব্যারিয়ার গেট’ সম্পর্কে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পাবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, ‘ট্রেন ইনফরমেশন বোর্ড’ (টিআইবি) ল্যাবরেটরি। যেখানে রেলকর্মীদের ট্রেনের রিয়েল-টাইমের তথ্য পর্যবেক্ষণ, পরিচালনা ও প্রদর্শনের পাঠ দেওয়া হবে। এই ল্যাবরেটরিতে ডেটা ইনপুট, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা এবং অডিয়ো-ভিস্যুয়াল প্রযুক্তির বিষয়ে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা প্রদান করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানে দুটি ‘মডেল রুম’ রয়েছে, যেখানে দৈনন্দিন রেল পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যবস্থার মডেল বা প্রতিরূপ রয়েছে। সিগন্যালিংয়ের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে রেললাইনের বিভিন্ন উপাদান (পার্মানেন্টওয়ে কম্পোনেন্টস) এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যবস্থা— রেলপথের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে পারবেন কর্মীরা। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানে আগামী দিনে ‘থ্রি-ফেজ ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ মোশন সিমুলেটর’ স্থাপন ও চালুর প্রস্তাব রয়েছে। আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, স্মার্ট শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা, ব্যবহারিক গবেষণাগার, কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষার পরিকাঠামো এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের সহায়তায় এই প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ কর্মী গড়ার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রেলকর্তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ