‘ফ্লপ শো’! তাহলে শাসক এত বিচলিত কেন?
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নরেন্দ্র মোদি কি কেরিয়ারের সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জের মুখে? সামনে পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের ভোট। যা ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্দিষ্ট করে দেবে অনেকটাই।  বাংলা দখলের পর একদা খেলাটা খুব সহজ মনে হলেও হঠাৎই কেমন কঠিন! উত্তরপ্রদেশের লড়াইয়ের প্রাক্কালে আচমকাই অশান্ত দিল্লি। নতুন বাঁকের মুখে জাতীয় রাজনীতি। আরশোলাদের আন্দোলনকে ভিত্তি করে বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে ময়দানে। এসআইআর শেষে ভোট চুরি যে এত বড়ো ইস্যু হয়ে যাবে কে জানত! জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি সামগ্রিক ভাবে বর্তমান সরকারের স্থায়িত্ব ও অস্তিত্বকেই যেন প্রতিমুহূর্তে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে অবলীলায়! তার ফলশ্রুতিতেই রামলীলায় গত রবিবার শক্তি প্রদর্শন করল বিরোধীরা। সম্ভবত মোদি জমানায় দিল্লির বুকে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সভা। মনে পড়ে যাচ্ছিল প্রায় অর্ধশতক আগে জয়প্রকাশের পাটনার সভার কথা। যা ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল নেহেরু কন্যা ইন্দিরাকে। এবার সামনে নরেন্দ্র মোদি এবং আরএসএস। লড়াই কিন্তু জমজমাট হতে যাচ্ছে।

Advertisement

কংগ্রেসের দাবি, গত রবিবার রামলীলার সভায় লোক হয়েছিল দশ লাখ। যদি তাই হয় তাহলে তো বলতেই হবে দম্ভ ও অহংকারের ভিত নড়ে গিয়েছে। শাসক তা সহজে মানবে কেন! এখানে সব ক্ষমতাবানেরই এক রা! বিজেপির বাজনদাররা ঢোল করতাল উচ্চগ্রামে বাজিয়ে রাজপথে নেমে পড়েছে রামলীলার সভাকে চূড়ান্ত ফ্লপ প্রমাণে। সভা শেষের আগে থেকেই সেই একই নামতা পড়ে চলেছে ছোটো বড়ো মেজো নেতানেত্রীরা। একবার তাঁরা বলছেন ৪০ শতাংশ চেয়ার খালি ছিল। আবার বলছেন সবটা ভরে গেলেও ওই মাঠে ৫০ হাজারের বেশি লোকের স্থানসংকুলান অসম্ভব। তাই বিরোধীদের পরিসংখ্যান মিথ্যা। রাজনৈতিক আকচা-আকচির এই ধারাবাহিক ঘটনাক্রমে পালটা ব্যাখ্যা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রতিবাদ হলেই শাসক বলবে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। বিদেশ থেকে টাকা আসছে। উন্নয়ন ভেস্তে দেওয়াই লক্ষ্য। টুকরে টুকরে গ্যাং কিংবা দিমাগি নকশালদের কাজ। দেশে অস্থিরতা তৈরিই উদ্দেশ্য। আর বিরোধীরা বলবে, মানুষের অস্তিত্ব সংকটে। ভোট চুরির কুনাট্যে মানুষই তো গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে ফুঁসছে! জোর করে নির্বাচনে হারানো হচ্ছে বিরোধীদের। এ জিনিস চলতে পারে না! এক্ষেত্রেও সেই চেনা জ্যামিতির ছকের বাইরে আমরা কেউ বেরতে পারছি না। কিন্তু প্রশ্ন একটাই যদি রাহুল সহ সিংহভাগ বিরোধীদের রবিবারের শো ফ্লপই হবে তাহলে শাসক এত বিচলিত কেন? ২২ রাজ্য যার দখলে, সংখ্যার বিচারে লোকসভা এবং রাজ্যসভা যার পকেটে, সে এত ঘামছে কেন? কোন উদ্বেগ থেকে দিকে দিকে পালটা মিছিল ও জনসভার আয়োজন। দেওয়ালির আগে রাজধানী দিল্লি অশান্ত। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত, তবু আন্দোলনের বিরাম নেই এবং তার অভিঘাত ১২ বছরে এই প্রথমবার সরকারকেও রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। অস্বস্তিতে ফেলছে শাসক বিজেপিকে। ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও’ ও ‘অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে একইদিনে অমিত শাহ সভা করছেন হায়দরাবাদে আর সর্বভারতীয় সভাপতি বক্তব্য রাখছেন ভাগলপুর ও কলকাতায়। দল ঘোষণা করেছে দেওয়ালি গেলেই উত্তরপ্রদেশে মোদিজি সহ বিজেপি নেতৃত্ব ঝাঁপিয়ে পড়বে সর্বশক্তি দিয়ে। পাঞ্জাবে অপারেশন লোটাসও সেই উদ্দেশ্যেই। এর থেকেই অনুমান করতে বাধা নেই তির ঠিক জায়গায় গিয়ে লেগেছে। তাই ফ্লপ বলেও অস্বস্তি ঢাকতে পারছে না বিজেপি হাইকমান্ড। উদ্বেগ তাড়া করছে। রামলীলার সভার সাফল্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে রাহুল গান্ধী খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন। বলছেন, ‘মোদি জি, দেশকে মিথ্যা বলা বন্ধ করুন। আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বিদেশি সাহায্যে। আপনি প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন রয়েছেনও বিদেশি সাহায্যে।’ আরও বলেছেন, ‘ভারতের আর্থিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিদেশিদের দ্বারা। সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণভাবে আপনাকে সমর্থন জোগায়। আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি খোলা ডিবেট-এ আসার জন্য। যেকোনো সময়, যেকোনো প্রকাশ্য মঞ্চে। যদি দম থাকে আসুন।’
এমন বিস্ফোরক নজিরবিহীন আক্রমণ দু’দিন আগেও অভাবনীয় ছিল। হঠাৎ কোন আত্মবিশ্বাস থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মুখোমুখি বিতর্কে আহ্বান জানাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রসায়ন কি দ্রুত বদলাচ্ছে। বিরোধী দলনেতার আরও বক্তব্য, জানি আপনি  মুখোমুখি বসতে সাহস করবেন না, কারণ আপনি ভয় পাচ্ছেন! কিছুদিন আগেই প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে মোদি অভিযোগ তোলেন, ‘ভারত মাতার সন্তানদের মধ্যে বিভাজন এবং ঘৃণা উসকে দিতে জঘন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আসলে একপেশে জাতীয় রাজনীতি হঠাৎই সরগরম। শাসক চাপে থাকলে, বিরোধীরা চ্যালেঞ্জ ছুড়লে গণতন্ত্রেরই মঙ্গল। এই সারসত্য ভুললে চলবে না। সেই কারণেই মুখে ফ্লপ বলেও শাসক ঘামছে উৎকণ্ঠায়! নিজেই রাস্তায় নামছে গণতন্ত্র রক্ষার শপথ নিতে। সরকার যখন নিজেই একাজে নামে তখন বুঝতে বাকি থাকে না ডাল মে কুচ কালা হ্যায়!