Bartaman Logo
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফি বছর বন্যার জল ঢোকে কান্দির দুই স্কুলে, ৪ মাস পঠনপাঠন লাটে

সমস্যা প্রায় ১৪ বছরের। এবছরও বন্যার জল ঢুকেছে স্কুল ঘরে। ক্লাস চলছে গ্রামের মন্দির, ক্লাবঘর, কখনও আবার ফ্লাড শেল্টারে

ফি বছর বন্যার জল ঢোকে কান্দির দুই স্কুলে, ৪ মাস পঠনপাঠন লাটে
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: সমস্যা প্রায় ১৪ বছরের। এবছরও বন্যার জল ঢুকেছে স্কুল ঘরে। ক্লাস চলছে গ্রামের মন্দির, ক্লাবঘর, কখনও আবার ফ্লাড শেল্টারে। ঘটনাটি কান্দি ব্লকের ৭ নম্বর রাজারামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। অন্যদিকে, সেই ২০০০ সালের বন্যার পর থেকে প্রতি বর্ষায় স্কুল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বড়ঞা ব্লকের গোদাপাড়া পুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এবছরও এই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম হয়নি।

Advertisement

রাজারামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী রয়েছে ৫৭ জন, শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। তবে প্রায় ১৪ বছর ধরে নিকাশি সমস্যায় ভূগছে স্কুলটি। আগে গ্রামের অধিকাংশ এলাকা থেকে বর্ষার জল স্কুলের পাশে একটি পুকুরে জমা হতো। সেখান থেকে একটি বড় নালার মাধ্যমে বেরিয়ে যেত। কিন্তু, ২০১২ সালে ওই নালা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই সমস্যা। বর্ষা নামলেই স্কুল চত্বর ঢেকে যায় বর্ষার জলে। সম্প্রতি, স্কুলে গিয়ে দেখা গিয়েছে, নোংরা, আবর্জনা সহ বর্ষার জল স্কুল চত্বর ডুবিয়ে দিয়েছে। এমনকি, শ্রেণিকক্ষের ভিতর এক হাঁটু জল জমে। স্কুলের দেওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাপ।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সপ্তম কুমার অধিকারী বলেন,  সেই ২০১২ সালের সমস্যা। দিনের পর দিন তীব্র আকার নিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বহুবার লিখিত আকারে জানিয়েছি। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবছরও ক্লাস নিতে হচ্ছে গ্রামের মন্দিরে, ক্লাবঘরে। তিনি বলেন, গত ৩ আগস্ট শেষবারের মতন স্কুলে মিডডে মিল হয়েছিল। কিন্তু ওইদিন খাবার পড়ুয়ারা মুখে দিতে পারেনি। হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টি নামে। খাবার জলে ভেসে যায়। তারপর থেকে মিডডে মিলও বন্ধ।
সম্প্রতি কান্দির বিডিও তাপস মণ্ডল স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি দ্রুত ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। স্কুলের এক অভিভাবক আরিফ শেখ বলেন, স্কুল চত্বরের দুষিত জমা জল রোগ ছড়াচ্ছে। সাপের কামড়ের ভয়ও রয়েছে। তাই আমার মতন অনেকেই বর্ষার চারমাস ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাই না।
বড়ঞা ব্লকের গোদাপাড়া পুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সমস্যাও একই। ২০০০ সালের বন্যার পর থেকে বানভাসি হয় স্কুলটি। সেবারের বন্যায় গোটা স্কুলটাই বন্যার তোড়ে ভেসে গিয়েছিল। স্কুল চত্বরে ২০ ফুট পর্যন্ত গর্ত হয়ে পড়েছিল বলে দাবি। স্কুল ভবন পুরোটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এরপর নতুন ভবন তৈরি হলেও স্কুল চত্বর এখনও নিচু রয়েছে। ফলে প্রতিবারের মতন এবারও স্কুল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
ওই স্কুলে ছাত্রছাত্রী রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩০০। শিক্ষক রয়েছেন আটজন। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত সরকার বলেন, স্কুল চত্বর জলমগ্ন। নোংরা জলে রোগের ভয়, ছাত্রছাত্রীদের পড়ে যাওয়ার ভয় ছাড়াও সাপের উপদ্রব রয়েছে। বন্যা কবলিত এই দু’টি স্কুল নিয়ে কান্দি মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বড়ঞার স্কুলটির সমস্যার মেটানোর কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষার পর কান্দির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ