নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাঞ্চেত ড্যামের জল ধারণ ক্ষমতা ৪৩৫ ফুট। অথচ জলস্তর ৪১৪.১৮ ফুট থাকাকালীনই ২১ জুন সকালে জল ছাড়ে ডিভিসি। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে জেনেও কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? জল ছাড়ার প্রয়োজন থাকলে কেন অল্প অল্প করে আগে থেকে ছাড়া হল না? এমন একাধিক প্রশ্ন তুলেই ডিভিসি’র বিরুদ্ধে দামোদর ভ্যালি রিভার রেগুলেটরি কমিটিকে (ডিভিআরআরসি) অভিযোগ পত্র পাঠাল রাজ্য। এর আগে একাধিকবার ডিভিসি’র ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। মাইথন-পাঞ্চেত সহ বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়ার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি, এদিন বিধানসভায় সাম্প্রতিক প্লাবনের জন্য ডিভিসি কর্তৃপক্ষের ‘খামখেয়ালি মনোভাবের’ তীব্র সমালোচনা করেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া।
রাজ্যের তরফে ডিভিআরআরসিকে চিঠি লিখেছেন সেচদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মণীশ জৈন। সেখানে ২০ জুন থেকে তার পরের কয়েকদিনের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। রাজ্য ডিভিসিকে কী কী জানিয়েছে, সেগুলি বিস্তারিত জানানো হয়। এর ভিত্তিতে ডিভিআরআরসি’র তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়া নিয়ে এদিন বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে মানস জানান, রাজ্য সরকারকে কিছু না জানিয়ে, চুক্তি লঙ্ঘন করে বিপুল পরিমাণ জল ছেড়েছে ডিভিসি। তেনুঘাট, মাইথন এবং দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে একসঙ্গে প্রায় ৭১ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এর ফলে পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাটাল, আরামবাগ, গঙ্গাজলঘাটি এবং উদয়নারায়ণপুরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ডিভিসির এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। এছাড়া রাজ্য সরকার ওষুধ, পানীয় জল, অস্থায়ী ক্যাম্প ও খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে। ফাইল চিত্র