নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ষষ্ঠীতেই জনসুনামি হুগলিতে। ইঙ্গিত মিলেছিল চতুর্থী, পঞ্চমীতেই। একে রবিবার তার উপরে পুজোর দিনগুলিতে বৃষ্টির আতঙ্ক। ফলে, ষষ্ঠীতেই পুজোর আনন্দকে চেটেপুটে উপভোগ করার চেষ্টা চালিয়েছে আম জনতা। বিকেল থেকেই জনস্রোত হুগলির বিভিন্ন জনপদে। সময় যত গড়িয়েছে, ততই ভিড় বাড়তে বাড়তে জনসুনামির চেহারা নিয়েছে। সন্ধ্যার মুখে আকাশ মুখ ভার করায় জনকল্লোল কিছুটা থমকে গেলেও সেই ভাটা ছিল সাময়িক। রাত যত বেড়েছে, ভিড়ের দাপট ততই বেলাগাম হয়ে উঠেছে। শহর থেকে গ্রাম, পুজো মণ্ডপগুলিতে কেবলই জনস্রোত। চুঁচুড়া থেকে ডানকুনি, বলাগড় থেকে শ্রীরামপুর, বৈদ্যবাটি থেকে চণ্ডীতলা, গলি থেকে রাজপথ, শুধুই থইথই ভিড়। একই পরিস্থিতি ধনেখালি, হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া, তারকেশ্বরের মণ্ডপগুলিতে। দর্শনার্থীদের ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। সকালের দিকে দু’-এক জায়গায় অবশ্য মণ্ডপ সাজানোর তোড়জোড়ও চোখে পড়েছে।
বড় থেকে ছোট, মণ্ডপে মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকদের ঘাম ছুটেছে ভিড়ের দাপট সামলাতে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে নাজেহাল হতে হয়েছে পুলিশ কর্মীদের। অন্ধকার ঘন হতেই বর্ণময় আলোকসজ্জা আর ছন্দময় ভিড়ে ভরে গিয়েছে পথপ্রান্তর। গ্রামের মানুষ যেমন শহরে এসেছেন, তেমনই শহুরে মানুষও গ্রামের বিগ বাজেটের পুজোর স্বাদ নিতে ছুটেছেন। রাত যত বেড়েছে, কোলাহল, গর্জন হয়ে উঠেছে। বহতা গঙ্গায় বাড়তি তুফান তুলেছে ভিড়ের উচ্ছ্বাস।
জেলা সদর চুঁচুড়া, মহকুমা সদর শ্রীরামপুরে এবার বড় বাজেটের পুজোর বিপুল দাপট। এদিন লাগামছাড়া ভিড়েরও একটি বিশেষ ছন্দ দেখা গিয়েছে। সন্ধ্যার মুখেই বাছাই করা স্থানীয় পুজো মণ্ডপ ঘুরে ওই ভিড় পাড়ি দিয়েছে পাশের এলাকায়। গত বছর একাধিক বিগ বাজেটের পুজো করে শহরকে প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিয়েছিল বলাগড়। এবারও রাত গড়াতেই ভিড়ের দাপট দেখা গিয়েছে সেখানকার বিভিন্ন এলাকায়। আবার গ্রামীণ মানুষদের দেখা গিয়েছে চুঁচুড়া, শ্রীরামপুর, ডানকুনির বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে। বলাগড় থেকে চুঁচুড়ায় সপরিবারে এসেছিলেন সমীর সাহা। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেও স্থানীয় পুজো সুযোগ মতো দেখে নেওয়া যাবে। কিন্তু চুঁচুড়া বা শ্রীরামপুরের পুজো দুর্যোগের মধ্যে দেখা কঠিন। তাই রবিবার বিকেলেই শহরের পুজো দেখতে বেরিয়ে পড়েছিলাম। শ্রীরামপুর থেকে ডানকুনিতে বাইকে চেপে এসেছিলেন তরুণী শ্রেয়া পাল। তিনি বলেন, শ্রীরামপুরের পুজো তো বাড়ি থেকে বের হলেই পেয়ে যাব। তাই দূরের পুজো দেখার কাজটা আগেই সেরে রাখতে চাইছি। তাছাড়া পাড়ায় আড্ডার একটি পরিকল্পনাও আছে। সেকারণে শহরের বাইরের পুজো আগে দেখতে বেরিয়েছি।
তরুণ থেকে তরুণীদের মধ্যে যেমন স্বাভাবিক উৎসাহ দেখা গিয়েছে, তেমনই সপরিবারে মধ্যবয়সিদের পুজো মণ্ডপে টইটইয়ের উৎসাহ ছিল অফুরান। তাতেই চুঁচুড়া, চন্দননগর, শ্রীরামপুর, উত্তরপাড়া, ডানকুনিতে জনপ্লাবন তৈরি হয়েছে। যা সামাল দিতে ঘেমে নেয়ে গিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। তারপরেও দর্শকদের সুনামি তাঁদের মুখে হাসি ক্রমেই চওড়া করেছে। তাঁরা বলছেন, ষষ্ঠীতেই ভিড়ের আনুষ্ঠানিক বোধন হয়ে গিয়েছে। নিজস্ব চিত্র