নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অল্প সময়ের বৃষ্টিতে শহর জলমগ্ন হওয়ায় এবার নিকাশি নালাগুলিকে পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দিল বাঁকুড়া পুরসভা। নিকাশি নালায় জমে থাকা প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ দ্রুত সরিয়ে ফেলার ব্যাপারে সাফাই কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনওভাবেই জল নিকাশি ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে, তা দেখা হবে বলে পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সারাবছরই নিকাশি নালা পরিষ্কার রাখি। তবে শহরবাসীর একাংশ নালায় বাড়ি ও দোকানের আবর্জনা, প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, জলের বোতল সহ অন্যান্য সামগ্রী ফেলে দেয়। পুরসভার সাফাই কর্মীরা গাড়ি নিয়ে এলাকায় ঘোরা সত্ত্বেও তাদের কাছে জঞ্জাল দেওয়া হয় না। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। শহরকে সুন্দর রাখতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পুরসভার একার প্রচেষ্টায় তা করা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে বাঁকুড়ায় এক ঘণ্টা ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। তার ফলে শহরের সতীঘাট এলাকা সহ একাধিক ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নিকাশি নালা উপচে নোংরা জল রাস্তার উপর দিয়ে বইতে থাকে। ফলে পথচারী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়েন। খোদ পুর চেয়ারম্যানের বাড়িতেও জল ঢুকে যায়। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির শিবিরের কাজকর্মও জমা জলের কারণে ব্যাহত হয়। বিষয়টি নিয়ে পুর কর্তৃপক্ষ বিড়ম্বনায় পড়ে। বাঁকুড়া শহর এমনিতেই উঁচু জায়গায় রয়েছে। অবস্থানগতকারণে শহরে বন্যা সেভাবে হয় না। গত কয়েকবছরে এভাবে শহর জলমগ্ন হয়নি বলে পুরসভার কর্তারাও স্বীকার করে নিয়েছেন। ফলে এবার কেন ওই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে।
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, সাধারণত পুজোর মুখে নিম্নচাপের কারণে ভারী বৃষ্টির ফলে অন্যান্যবার সমস্যা হয়। তবে এবার জুন মাস থেকেই বাঁকুড়ায় নাগারে বৃষ্টি হচ্ছে। তার ফলে শহরের আবর্জনা বৃষ্টির জলে ধুয়েমুছে নিকাশি নালায় গিয়ে জমেছে। দিনদিন তা জমতে থাকার ফলে নালার জল বহনের ক্ষমতা কমে গিয়ে থাকতে পারে। সেইকারণে অল্প সময়ে ভারী বৃষ্টি হলে তা নালা হয়ে নদীতে গিয়ে পড়তে দেরি হচ্ছে। ততক্ষণে রাস্তার উপর জল উঠে যাচ্ছে। পাশাপাশি লোকালয় জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাফাই কর্মী নিযুক্ত রয়েছে। নিকাশি নালার কাদা, ময়লা কোদাল, বেলচায় তুলে ফেলা তাদের কাজ। পরে সেই ময়লা পুরসভার গাড়িতে চাপিয়ে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে গিয়ে জমা করা হয়। সাফাইকর্মীদের ওই কাজ ঘনঘন করতে বলা হয়েছে। কাউন্সিলারারও নিজ নিজ ওয়ার্ডের কাজ খতিয়ে দেখছেন। -নিজস্ব চিত্র