বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: ‘বিজেপিকে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আনুন, আমরা অসমকে বন্যামুক্ত করব।’ ২০২১ সালে ভোটপ্রচারে গিয়ে এমনই আশ্বাস দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপর ব্রহ্মপুত্র থেকে অনেক জল গড়িয়েছে। চলতি বছরেও অসমে বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯৫ জনের। ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ জেলার ১ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। সেই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ফের ভাইরাল হয়েছে শাহের সেই আশ্বাস। খোঁচা দিতে ছাড়ছে না বিরোধীরাও।
অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর জানিয়েছে, মৃতের তালিকায় থাকা ৫০ জনই শিবসাগর জেলার বাসিন্দা। চারিদেও জেলাতেও মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে ৫৭ হাজার জনই শিবসাগরের বাসিন্দা। গোলাঘাট জেলায় ৩৭ হাজার ও জোরহাট জেলায় ২৫ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত। বন্যার জলে ডুবে গিয়েছে ১৬ হাজার ৯৫২ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, পূর্ব অসম ও নাগাল্যান্ডে লাগামছাড়া বালি ও কয়লা উত্তোলনের কারণেই বন্যা এই ভয়াবহ আকার নিয়েছে। কংগ্রেস নেতা নীলমণি সেনের আক্রমণ, ‘বেআইনি উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে। বিজেপি সরকার কী এই পরিস্থিতির দায় নেবে?’ বন্যা কবলিত অসম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের না যাওয়া নিয়েও আক্রমণ শানিয়েছেন তাঁরা। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, ৪০০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হওয়ার কারণেই অসমজুড়ে এই বিপর্যয়। এদিকে, বন্যা কবলিত অসমে পরিদর্শনে এলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। নেপালিখুটি এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। যদিও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন নাড্ডা।
এর মধ্যেই বন্যাবিধ্বস্ত শিবসাগর ও চরাইদেও সহ বিভিন্ন জেলায় আগামী ১০ আগস্ট থেকে স্কুলে নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম সরকার। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রনোজ পেগু জানান, ভয়াবহ বন্যার জেরে বহু স্কুলে এখনও কাদা পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ চলছে। ফলে ১০ তারিখ থেকেই সব স্কুলে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে না। যে স্কুলগুলি এখনও পড়াশোনার উপযোগী হয়ে ওঠেনি, সেগুলিতে আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।