Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

উড়তে না পারা তোতা

অবিকল টিয়া পাখির মতো দেখতে, কিন্তু উড়তে পারে না! নিউজিল্যান্ডে দেখা মেলে এই পাখির। কাকাপোর উড়তে না পারার কারণ জানালেন

উড়তে না পারা তোতা
  • ১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০

অবিকল টিয়া পাখির মতো দেখতে, কিন্তু উড়তে পারে না! নিউজিল্যান্ডে দেখা মেলে এই পাখির। কাকাপোর উড়তে না পারার কারণ জানালেন শান্তনু দত্ত।

Advertisement

আতা গাছে তোতা পাখি
ডালিম গাছে মৌ...।

শৈশবের এই ছড়াটির সঙ্গে আমরা সকলেই পরিচিত। সেই সঙ্গে চিনে নিই একটি সবুজ পাখি। তোতা। তবে, আজ আমরা যে তোতার কথা জানব, তার কিন্তু আমাদের পরিচিত পাখির সঙ্গে বেশ কিছুটা অমিল রয়েছে। ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা জানলে অবাক হবে, এই তোতা উড়তে পারে না। লাফিয়ে লাফিয়ে গাছে চড়ে। আবার এদের ওজনও সাধারণ টিয়ার থেকে অনেকটাই বেশি। এই তোতার নাম কাকাপো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো ‘প্যারট’ জাতীয় পাখি হল কাকাপো। 
কাকাপো দেখতে ভীষণ সুন্দর। সবুজ রঙের পালকে ঢাকা থাকে গোটা শরীর। এই রঙের জন্য জঙ্গলের মধ্যে সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারে তারা। এদের চোখ বড়ো বড়ো। কাকাপো নিশাচর। অলসভাবে দিনের অধিকাংশ সময় কাটায়। গাছের নীচে বা ঝোপের মধ্যে বিশ্রাম নেয় সারাদিন। আর রাত হলেই বেরিয়ে পড়ে খাবারের খোঁজে। এদের খাদ্যতালিকায় থাকে গাছের ফল, বীজ, পাতা, ফুল, গাছের ছাল, এমনকি মাটির নীচের কন্দও। এদের ঘ্রাণশক্তি খুব ভালো। দলের কোনো সদস্য হারিয়ে গেলে গন্ধের সাহায্যে তাকে খুঁজে বের করতে পারে কাকাপো। 
তবে তোতা হলেও এরা উড়তে পারে না কেন জানো? কারণ ওজন। এদের ওজন প্রায় ২ থেকে ৪ কিলোগ্রাম। এই ওজনের কারণেই ডানা মেলে উড়তে পারে না এরা। আর এদের আকারও বেশ বড়ো হয়। প্রায় দু’ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় এক-একটি কাকাপো। এত ভারী শরীর নিয়ে এদের পক্ষে ওড়া খুবই মুশকিল। ওড়ার বদলে হেঁটে, দৌড়ে, লাফিয়ে বা গাছ বেয়ে ওঠে এরা। কেবল গাছ নয়, পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটতে এরা খুব পারদর্শী। গাছ থেকে নামার সময় একটি কৌশল অবলম্বন করে কাকাপো। দু’টি ডানা দু’দিকে ভাসিয়ে দেয়। তারপর ধীরে ধীরে নেমে আসে নীচে। ঠিক প্যারাস্যুটের মতো। এতে শরীরে আঘাতও কম লাগে, পরিশ্রমও হয় না। কাকাপো খুব ধীরে ধীরে বড়ো হয়। প্রতি বছর ডিমও পাড়ে না। সাধারণত দুই থেকে চার বছর অন্তর ডিম দেয় এরা। বিপদের সময় একটি কৌশল অবলম্বন করে এরা। পাথরের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এর ফলে ঘন জঙ্গলের মাঝে এদের আলাদা করা সম্ভব হয় না। 
কাকাপোর সন্ধান পাওয়া যায় মূলত নিউজিল্যান্ডে। আগে নিউজিল্যান্ডের তিনটি বড়ো দ্বীপেই কাকাপোর দেখা মিলত। কিন্তু মানুষের বসতি, নির্বিচারে বন-জঙ্গল কাটা আর বাইরে থেকে আসা শিকারি প্রাণীর আক্রমণে এদের সংখ্যা খুব কমে গিয়েছে। একসময় বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন, কাকাপো হয়তো পৃথিবী থেকে একেবারে হারিয়ে গিয়েছে। যদিও পরে ফের তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরাও ক্রমাগত চেষ্টা করছেন এই গোত্রের তোতাপাখিকে বাঁচিয়ে রাখার। কাকাপো পাখি দীর্ঘজীবী। এরা ৬০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এমনকি কিছু কাকাপো ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। মানুষের মতো দীর্ঘ জীবন পাওয়া পাখির মধ্যে কাকাপো অন্যতম। 
তবে কাকাপোর জীবন প্রতিকূলতায় ভরা। উড়তে না পারার কারণে এরা অন্যান্য শিকারি প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয়। বিড়াল, কুকুর, ইঁদুর বা অন্য মাংসাশী প্রাণী এদের আক্রমণ করে। তাই আজকাল কাকাপোকে বাঁচাতে বিজ্ঞানীরা বিশেষ দ্বীপে রেখে দেন, যেখানে কোনো শিকারি প্রাণী নেই। এসব দ্বীপকে বলা হয় ‘প্রেডেটর ফ্রি আইল্যান্ড’। নিউজিল্যান্ড সরকার ও বিজ্ঞানীরা কাকাপোকে বাঁচানোর জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করছেন। বিশ্বের এই বিস্ময়কর পাখিটিকে রক্ষা করা তো আমাদেরও দায়িত্ব, তাই না!

সম্পর্কিত সংবাদ