নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম শহরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য পাঁচতলা শপিং মল গড়ে তোলা হবে। জেলার যাবতীয় লোকজ শিল্পজাত দ্রব্য, খাবারএকছাদের তলায় পাওয়া যায়। শপিংমলটি শহরের রাজ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম শহরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য পাঁচতলা শপিং মল গড়ে তোলা হবে। জেলার যাবতীয় লোকজ শিল্পজাত দ্রব্য, খাবারএকছাদের তলায় পাওয়া যায়। শপিংমলটি শহরের রাজ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন,জেলা প্রশাসনের তরফে জমি দেওয়াহবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কাজটিহবে। গ্ৰাউন্ড ও প্রথমতলের স্টলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতের তৈরি জিনিসপত্র, নানা ধরনের খাবার পাওয়া যাবে। ঝাড়গ্রামের নিজস্ব লোকজ ও হস্তশিল্পের জিনিসপত্র এবার এক ছাদের তলায় পাওয়া যাবে। আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে উঠবেন জেলার উদ্যোগী মহিলারা। ঝাড়গ্রাম একদশক আগেও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। অনুন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের অভাব ছিল সর্বত্র।রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পর সেই ছবি পাল্টাতে শুরু করে। মহিলাদের নিয়ে গ্ৰামীণ এলাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তোলা হয়েছে। জেলায় ১৫ হাজারের ওপর স্বনির্ভর মহিলা গোষ্ঠী রয়েছে।বাঁশ, বাবুই ঘাসের তৈরি ঘর সাজানোর জিনিস, উলের তৈরি পোশাক, সাজসজ্জার গয়না, ধূপকাঠি, ডালের বড়ি, ঘি, দই, পিঠে তৈরি করছেন।জামবনী ব্লকের চিল্কিগড় এলাকার মহিলারা ডোকরা শিল্পের কাজ ফিরিয়ে এনেছেন।বিনপুর-২ ব্লকের জঙ্গল অধ্যুষিত এলাকায় আদিবাসী মহিলারা বাবুই ঘাস দিয়ে ঘর সাজাবার জিনিসপত্র তৈরি করছেন।পর্যটকদের কাছে এই সব জিনিসপত্রের চাহিদা বাড়ছে। ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে কিছুদিন আগেই সৃষ্ঠিশ্রী স্টলের উদ্বোধন করা হয়েছে।স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতের তৈরি জিনিসপত্র সেখানে বিক্রি হচ্ছে। জেলারপর্যটনস্থল, শহরের রুরাল হাট, সৃষ্ঠিশ্রী মেলায় সেইসব জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে।শহরের সঙ্গে প্রত্যন্ত গ্ৰামীণ এলাকার মহিলারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। এতদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে জিনিসপত্র বিক্রি করতে হতো। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা শহরের জনবহুল এলাকার শপিংমলে নিজেদের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারবেন। পর্যটকরাও এক ছাদের তলায় ঝাড়গ্রামের নিজস্ব লোকজ ও হস্তশিল্প কিনতে পারবেন।
অরণ্য সুন্দরী মহাসঙ্ঘের সদস্য মধুমিতা পরিহারি বলেন, মহিলারা ঘরে বসেই হাতের তৈরি জিনিসপত্র তৈরি করছেন। ডালের বড়ি, নানা ধরনের পিঠে তৈরি করছেন। চাহিদাও বাড়ছে। মেলা ও খোলা বাজারে এতদিন বিক্রি করতে হতো। শহরের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা রাজ কলেজ সংলগ্ন এলাকা। এলাকায় একাধিক শপিংমলও আছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তাদের তৈরি জিনিসপত্র শপিংমলে বসে বিক্রি করতে পারবেন।লোকজ শিল্পের পণ্য বিক্রিতে অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে পাল্লা দিতে পারবেন।কবিতা পাত্র বলেন, শহরের রুরাল হাটে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য স্টল দেওয়া হয়েছে।শহরের একপ্রান্তে হওয়ায় লোকজন বেশি থাকেনা। জিনিসপত্র বিক্রি হয়না। ডিএম অফিস, রাজ কলেজ সংলগ্ন এলাকাটি জনবহুল।স্থায়ী ও আধুনিকমানের শপিংমলে আমাদের তৈরি জিনিসপত্র ভালো বিক্রি হবে। জেলার মহিলাদের স্বনির্ভর করার ধারাবাহিক যে উদ্যোগ চলছে তা প্রশাংসাজনক।
বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, অরণ্য অধ্যুষিত এই জেলার মানুষের নিজস্ব এক সংস্কৃতি ও শিল্প আছে। বাইরের মানুষের কাছে তার কদর আছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি জেলার শিল্পদ্রব্যের চাহিদা রয়েছে।এভাবেই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে জেলার মহিলাদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন হচ্ছে।