নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাজের টোপ দিয়ে গুজরাত থেকে কলকাতায় নিয়ে এসে বিদেশে পাচারের আগেই রবীন্দ্রসরোবর থানার তৎপরতায় উদ্ধার হল দুই মহিলা, দুই শিশু সহ পাঁচজন। বিমানবন্দর এলাকায় একটি হোটেলে সকলকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। হরিয়ানার যে সংস্থা তাদের নিয়ে এসেছিল, তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে খবর, গুজরাতের বাসিন্দা যোগেশকুমার দাভি অনেক দিন ধরেই বিদেশে চাকরির খোঁজ করছিলেন। হরিয়ানার একটি ট্রাভেল সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে যোগেশকে বলা হয়, কানাডায় কাজের সুযোগ রয়েছে। আসলে এটা যে টোপ তা বুঝতে পারেননি যোগেশ। তাঁকে বলা হয়, অন্য কেউ যেতে চাইলে কাজের সুযোগ করে দেবে তারা। যোগেশের তুতো বোন যেতে রাজি হন। যোগেশের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নেয় ওই ট্রাভেল সংস্থা। পাশাপাশি ভিসা করানোর জন্য পাসপোর্টও নিয়েছিল।
মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে যোগেশ, তাঁর স্ত্রী, ছেলে, তুতো বোন ও তাঁর মেয়েকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যায় ওই কোম্পানি। কানাডার ভিসার জন্য চেষ্টা করছিল। একমাস পেরিয়ে গেলেও কিছু করে উঠতে না পেরে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই কোম্পানি। সেই দেশ থেকে কানাডার ভিসা জোগাড় করে পাঠানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা কাজ না করায় যোগেশের পরিবারকে ২৩ জুন থাইল্যান্ড থেকে কলকাতায় নিয়ে এসে বিমানবন্দর লাগোয়া একটি হোটেলে রাখা হয়। ২৬ জুন পাঁচজনকে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে আসে অভিযুক্তরা। সেখানে একসপ্তাহ রাখার পর তাঁদের ৩ জুলাই ফের কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পাচারের চেষ্টা চলছিল।
যোগেশের সঙ্গে সেদিন শেষবার কথা হয়েছিল তাঁর এক বন্ধুর। তিনি জানিয়েছিলেন, বোর্ডিং পাস পেয়ে গিয়েছেন এবং নিরাপদে যাচ্ছেন। কথাবার্তা শুনে সন্দেহ হওয়ায় ওই বন্ধু অভিবাসন দপ্তরে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, যোগেশ ও তাঁর পরিবার দেশ ছেড়েছেন এমন কোনও তথ্য তাঁদের কাছে নেই। ওই বন্ধুকে যোগেশ জানিয়েছিলেন, তাঁদের রবীন্দ্র সরোবর এলাকার একটি গেস্ট হাউসে রাখা হয়েছে। তার ভিত্তিতে যোগেশের পরিচিত ওই ব্যক্তি ৮ জুলাই রবীন্দ্র সরোবর থানায় এসে বিষয়টি জানালে পুলিস মামলা রুজু করে। যোগেশের মোবাইলের সূত্র ধরে জানা যায়, তাঁদের রাখা হয়েছে বিমানবন্দর এলাকায়। সেখানে গিয়ে পুলিস বুধবার দুপুরে পাঁচজনকে উদ্ধার করে। যদিও অভিযুক্তদের পাওয়া যায়নি। যোগেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বিমানবন্দর লাগোয়া হোটেলে আটকে রেখে তাঁদের বাড়তি টাকা চাওয়া হচ্ছিল। হরিয়ানার এই সংস্থার কলকাতায় এজেন্ট রয়েছে। তদন্তে উঠে আসছে, এই ট্রাভেল এজেন্সি আসলে মানবপাচারে যুক্ত। অনেককেই কলকাতায় থাকা এজেন্টদের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও তারা একাধিকজনকে পাচার করেছে বলে অভিযোগ।