সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা পঞ্চায়েতের মাঝের চড়া কলোনি পাড়া থেকে মাঝের চড়া গঙ্গার ধার পর্যন্ত প্রায় পাঁচশো মিটার রাস্তা বেহাল। অল্প বৃষ্টিতেই ওই রাস্তার অনেক জায়গায় জল জমে যায়। এই জমা জল আর কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই প্রায় তিন থেকে চার হাজার মানুষকে যাতায়াত করতে হয়।
ফলে বৃষ্টি হলেই সমস্যায় পড়তে হয় মাঝের চড়া, চৌধুরীপাড়া, গদখালি চর, কুড়মি পাড়া, মালিতা পাড়ার বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগ, বারবার রাস্তার এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েতকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি।
মাঝের চড়া কলোনি পাড়া এবং মাঝের চড়া প্রাইমারি স্কুলের যাওয়ার রাস্তায় অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে থাকে। রাস্তাটির বেশ কিছু অংশ ঢালাই হলেও প্রাইমারি স্কুলের সামনে থেকে নতুন মসজিদের সামনে পর্যন্ত প্রায় দেড়শো মিটার অংশ এখনও কাঁচা। এই রাস্তাটিতে পাকা নর্দমা থাকলেও তা দিয়ে জল বের হয় না। ফলে বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ পোহাতে হয় চার-পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দাকে। নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা পঞ্চায়েতের এই রাস্তাটি শুধু মাঝের চড়া গ্রামের বাসিন্দাদের নয়, পাশের গ্রামের চৌধুরীপাড়া, গদখালি চর, কুড়মি পাড়া, মালিতা পাড়ার গ্রামবাসীদেরও যাতায়াতের অন্যতম প্রধান রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে ওই সব গ্রামের বাসিন্দারা কেউ নবদ্বীপ ব্লক অফিস, পঞ্চায়েত অফিস, কেউ কালীনগর স্টেশন, কেউ বা পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট, নিমতলা, সমুদ্রগড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সহ বিভিন্ন কাজে যান। রাস্তাটির বেহাল পরিস্থিতির কারণে মাঝে মধ্যে ছোটখাট দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন অনেকেই। রাস্তাটির পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, কাদার মধ্যে দিয়ে হেঁটেও যাতায়াত করা যায় না। তখন সাইকেল, টোটো, মোটর সাইকেলের চাকার বেশ কিছু অংশ ডুবে যায়। বৃষ্টি হলে যখন রাস্তায় জল জমে যায় তখন ছোট্ট পড়ুয়াদের কোলে করে পরিবারের লোকজন স্কুলে পৌঁছে দেন।মহিশুরা পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য সাহাজুদ্দিন শেখ বলেন, রাস্তাটির বিষয়ে পঞ্চায়েতে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েতের ফান্ড না থাকায় রাস্তাটি হচ্ছে না। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, গ্রামবাসীদের সমস্যার কথা ভেবে দ্রুত রাস্তাটি মেরামতির ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।
মাঝের চড়া পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রেজিনা বিবি বলেন, আমার দু’টি ছেলেমেয়ে স্কুলে যায়। একজন পঞ্চম শ্রেণিতে, আরেকজন তৃতীয় শ্রেণিতে। বৃষ্টি হলেই ওদের কোলে করে স্কুলে পৌঁছে দিতে হয়। মাঝের চড়া গ্রামের বাসিন্দা আলি হোসেন মণ্ডল বলেন, ড্রেন দিয়ে জল নামে না। তৈরির সময় থেকেই ড্রেনের হাল খারাপ। স্থানীয় আরও এক পঞ্চায়েত সদস্য মহসিন মণ্ডল বলেন, রাস্তাটি সারানোর বিষয়ে বার বার পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে জেলা পরিষদে জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এর আগেও গ্রামবাসীরা ‘দিদিকে বলো’-তে ফোন করে সমস্যা জানিয়েছিল। এই রাস্তার বিষয়ে মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। মহিশুরা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আকমল সরদার বলেন, পঞ্চায়েতের কাছে তেমন ফান্ড নেই। কিন্তু রাস্তা এবং ড্রেনের কাজটা করা উচিত। বিষয়টি বার বারবার জেলা পরিষদকে জানানো
হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র