সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দামি চারচাকা গাড়িতে ‘পুলিস’ লেখা বোর্ড লাগিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ডাকাতের দল। পুলিসের গাড়ি মনে করে অনেক গাড়ি ভয়ে সাইডও দিয়ে দেয়। কিন্তু ময়ূরেশ্বরে নাকা চেকিংয়ে সব জারিজুরি শেষ। গাড়িতে থাকা পাঁচজনের কেউই পুলিস কর্মীর পরিচয় পত্র দেখাতে পারেনি। সন্দেহ হওয়ায় পুলিস গাড়িটিতে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় লঙ্কার গুঁড়ো, অ্যাসিড জাতীয় তরল, ধারালো অস্ত্র সহ প্রায় এক লক্ষ ৮০ হাজার নগদ টাকা। এরপরই পুলিস আন্তঃজেলা দুষ্কৃতী দলের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। বাজেয়াপ্ত করা হয় দামি এসইউভি গাড়িটি। পুলিসের দাবি প্রাথমিক জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, পুলিস লেখা বোর্ডকে ঢাল করে রাতের বাস বা অন্য কোনও যানবাহনে ডাকাতির ছক ছিল তাদের।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ময়ূরেশ্বরের রামনগর থেকে হটিনগর যাওয়ার রাস্তায় কেশববাটি গ্রামের কাছে নাকা চেকিং চলছিল। সেই সময় দ্রুতগতিতে আসা ‘পুলিস’ বোর্ড লাগানো গাড়িটি তাড়াহুড়ো করে চলে যাওয়ার রাস্তা ধরে। কর্তব্যরত পুলিস কর্মীরা গাড়িটিকে দাঁড় করাতে বললে ভিতর থেকে পুলিসের গাড়ি বলে আওয়াজও দেওয়া হয়। তবে তা সত্ত্বেও পুলিস কর্মীরা গাড়িটিকে দাঁড় করান। তাঁরা দেখেন, গাড়িটিতে চালক সহ পাঁচজন রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা নানারকম কথা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখে গাড়িটিতে তল্লাশি চালাতেই তাজ্জব হয়ে যান পুলিস কর্মীরা। গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় এক বোতল অ্যাসিড জাতীয় তরল, প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ ভর্তি লঙ্কার গুড়ো, বেশ কয়েকটি ধারালো চাকু, দড়ি, লোহার রড ও নগদ প্রায় এক লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এরপরই পুলিস পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। বাজেয়াপ্ত করা হয় চারচাকা গাড়িটি। যেটি মানিকচক এলাকার। পুলিসের একটি সূত্র জানাচ্ছে, দুষ্কৃতকর্মের পাশাপাশি এই এলাকার ভুয়ো সোনার কয়েন বিক্রি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে এসেছিল ধৃতরা। রাস্তায় সন্দেহ ও তল্লাশি এড়াতে তারা গাড়িতে ‘পুলিস’ বোর্ড লাগিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে চারচাকা গাড়িতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বোর্ড ও নীলবাতি লাগিয়ে ঝাড়খণ্ডে যাওয়ার পথে রামপুরহাট থানার পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয় কলকাতা ও হাওড়ার তিন যুবক। তাদের কাছ থেকে ‘মিনিস্ট্রি অব হোম অ্যাফেয়ার্স’ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিভিন্ন বিভাগের একাধিক আইডি ও ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার হয়। পুলিস তদন্তে নেমে দেখে সেগুলি সবই ভুয়ো। গত মে মাসে ‘গভর্নমেন্ট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল’ লেখা বোর্ড সহ একটি গাড়ি আটক করে নলহাটি থানার পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয় নলহাটির মোস্তফাডাঙাপাড়া গ্রামের দুই যুবককে। এছাড়া কয়েক মাস আগে জাতীয় সড়কের উপরে ‘পুলিস’ বোর্ড সহ একটি গাড়ি আটক করে রামপুরহাট থানা। গ্রেপ্তার করা হয় কয়েকজন দুষ্কৃতীকে। সব মিলিয়ে গাড়িতে নীলবাতি, পুলিস, স্বরাস্ট্র মন্ত্রকের বোর্ড লাগিয়ে অপরাধ করার প্রবণতা বাড়ছে।