Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাইকরে মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানকে ধর্ষণের হুমকি, আত্মসমর্পণ ৫ ঠিকাদারের

পাইকরে মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানকে ধর্ষণের হুমকি, আত্মসমর্পণ ৫ ঠিকাদারের
  • ২৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সরকারি কার্যালয়ের ভিতরে তৃণমূলের মহিলা প্রধানকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল কয়েকজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নগ্ন করে গ্রাম ঘোরানো ও অ্যাসিড ছুড়ে চেহারা বিকৃতি করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আতঙ্কিত প্রধান পাঁচ ঠিকাদারের নামে পাইকর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুক্রবার অভিযুক্ত পাঁচজন রামপুরহাট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। 

Advertisement

গত বুধবার পাইকর এলাকার একটি পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধান মুরারই ২ ব্লক অফিসে মিটিংয়ে যোগ দিতে আসেন। সেখানেই তিনি জানতে পারেন, এলাকারই একটি পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অফিসাব তাঁর পঞ্চায়েতে জয়েন করবেন। সেইমতো তিনি ওই আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে সেই পঞ্চায়েত যান। সেই সময় এক ঠিকাদার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ওই অফিসে ঢুকে মহিলা প্রধানকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ। প্রধান বলেন, সেই সময় আরও কয়েকজন ঠিকাদার ঢুকে ওই পঞ্চায়েতের কর্মীদের সামনে আমাকে গণধর্ষণের পর নগ্ন করে এলাকায় ঘোরানোর হুমকি দেয়। অ্যাসিড ছুড়ে চেহারা বিকৃত করার ও পাচার করার ক্ষমতা তাদের আছে বলেও হুমকি দিতে থাকে। চুলের মুঠি ধরে মারধরও করে তারা। সেই সময় ওই পঞ্চায়েতের কর্মীরা দৌড়ে এসে আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেন। রাতে এলাকার পাঁচ ঠিকাদারের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পাশাপাশি দলীয় বিধায়ক ও নেতৃত্বকে বিষয়টি জানান। 
প্রধান বলেন, মাস তিনেক আগে পঞ্চায়েতের একটি কাজের টেন্ডারের জন্য সিপিএম সদস্য কচিনা বিবির দেওর এনামুল শেখ সহ দুজন অনলাইনে আবেদন করেন। কিন্তু দেখা যায়, সেই পেপার জাল। এরপর বোর্ডের মিটিং ডেকে রেজ্যুলিউশন করে ওই দুজনকে কালো তালিকাভুক্ত করি। তারা আমার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করে। সেই মামলায় আমরা জয়ী হই। এরপর থেকেই ওরা নানাভাবে পঞ্চায়েতের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে থাকে। ওরা এলাকায় মিথ্যা রটনা করে আমি নাকি কাজের বিনিময়ে কমিশন খাই। আমি গুরুত্ব দিইনি। তিনি বলেন, পুরনো সেই রাগ থেকেই ওরা এমনটা করেছে। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছি। যদিও অভিযুক্ত এনামুল শেখ মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান। আক্রোশ থেকে মিথ্যা অভিযোগ হয়েছে বলেও অভিযোগ। প্রধান অনিয়মে যুক্ত। আরেক অভিযুক্ত ঠিকাদার শিষফুল শেখ বলেন, ওইদিনের পঞ্চায়েতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হোক। কথাকাটি চললেও কোনও হুমকি বা মারধর করা হয়নি। পুলিস অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা শুরু করে। শুক্রবার দুপুরে অভিযুক্তরা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বিচারক জামিন দেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ