Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাইকরে পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধানকে ধর্ষণের হুমকি, অভিযুক্ত পাঁচ ঠিকাদার

পাইকরে পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধানকে ধর্ষণের হুমকি, অভিযুক্ত পাঁচ ঠিকাদার
  • ২৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সরকারি কার্যালয়ের ভিতরে তৃণমূলের মহিলা প্রধানকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল কয়েকজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নগ্ন করে গ্রাম ঘোরানো ও অ্যাসিড ছুড়ে চেহারা বিকৃতি করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আতঙ্কিত প্রধান পাঁচ ঠিকাদারের নামে পাইকর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও অভিযুক্তরা অধরা। পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছ। তাদের খোঁজ চলছে। 

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার। ওইদিন পাইকর এলাকার একটি পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধান মুরারই ২ ব্লক অফিসে মিটিংয়ে যোগ দিতে আসেন। সেখানেই তিনি জানতে পারেন, এলাকারই একটি পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ তাঁর পঞ্চায়েতে জয়েন করবেন। সেইমতো তিনি ওই আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে সেই পঞ্চায়েত যান। সেই সময়ে এক ঠিকাদার মদ্যপ অবস্থায় ওই অফিসে ঢুকে মহিলা প্রধানকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ। প্রধান বলেন, সেই সময়ে আরও কয়েকজন ঠিকাদার ঢুকে ওই পঞ্চায়েতের কর্মীদের সামনে আমাকে গণধর্ষণের পর নগ্ন করে এলাকায় ঘোরানোর হুমকি দেয়। অ্যাসিড ছুড়ে চেহারা বিকৃত করার ও পাচার করার ক্ষমতা তাদের আছে বলেও হুমকি দিতে থাকে। চুলের মুঠি ধরে মারধরও করে তারা। সেই সময় ওই পঞ্চায়েতের কর্মীরা দৌড়ে এসে আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেন। রাতে এলাকার পাঁচ ঠিকাদারের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পাশাপাশি দলীয় বিধায়ক ও নেতৃত্বকে বিষয়টি জানান। 
প্রধান বলেন, মাস তিনেক আগে পঞ্চায়েতের একটি কাজের টেন্ডারের জন্য সিপিএম সদস্য কচিনা বিবির দেওর এনামুল শেখ সহ দু’জন অনলাইনে আবেদন করেন। কিন্তু দেখা যায়, সেই পেপার জাল। এরপর বোর্ডের মিটিং ডেকে রেজল্যুশন করে ওই দু’জনকে কালো তালিকা ভুক্ত করি। তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলায় আমরা জয়ী হই। এরপর থেকেই ওরা নানাভাবে পঞ্চায়েতের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে থাকে। ওরা এলাকায় মিথ্যা রটনা করে আমি নাকি কাজের বিনিময়ে কমিশন খাই। আমি গুরুত্ব দিইনি। তিনি বলেন, পুরনো সেই রাগ থেকেই ওরা এমনটা করেছে। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছি। যদিও অভিযুক্ত এনামুল শেখ বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার দিন আমি ছিলাম না। মাস তিনকে আগে প্রধান আমাদের কালো তালিকা ভুক্ত করেন। ড্রাফ্ট জমা নিচ্ছিলেন না। সেই কারণে মামলা করলে আদালত ড্রাফ্ট জমা নিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও জমা নেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার ফের আদালতে মামলা করেছি। সেই রাগ, আক্রোশ থেকে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। পাইকরে ঝামেলা হয়েছে। আর আমি থাকি কুশমোড়ে। তিনি বলেন, প্রধান নিজেই দুর্নীতিতে যুক্ত। আরেক অভিযুক্ত ঠিকাদার শিষফুল শেখ বলেন, ওই দিনের পঞ্চায়েতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হোক। কথা কাটাকাটি  চললেও কোনও হুমকি বা মারধর করা হয়নি। পুলিস অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিএনএসের ১২৬ (২), ১১৫ (২),৩৫১ (২)(৩), ৩(৫) ধারায় মামলা শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ