নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত একটি ভোট সমীক্ষক সংস্থার নাম করে খোঁজখবর নেওয়ার অভিযোগে বুধবার তালডাংরা থানার পুলিস পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, তাদের বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের বরাকর ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে। অভিযোগ, ধৃতরা কোনও কোনও জায়গায় নিজেদের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বলেও পরিচয় দিয়েছিল। এখনও বিধানসভা ভোট হতে বছরখানেক সময় রয়েছে। এত আগে থেকে ভোটের সমীক্ষা চালানোর জন্য কেন তারা এলাকায় ঘুরছিল। কেনই বা অন্য সংস্থার নাম ভাঁড়িয়ে কাজে নেমেছিল, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে।
তালডাংরা থানার এক আধিকারিক বলেন, ভোট সমীক্ষক সংস্থার নাম করে ওই পাঁচজন পাঁচমুড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত খোঁজখবর নিচ্ছিল। তারা বিভিন্ন তথ্যও জানতে চাইছিল। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা আমাদের খবর দেন। আমরা ওই পাঁচজনকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তা বলতে থাকা ও সঠিক পরিচয়পত্র দেখাতে না পারার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের দলের সঙ্গে যুক্ত একটি ভোট সমীক্ষক সংস্থার নাম করে ওই দলটি এলাকায় সার্ভে চালাচ্ছিল। এর আগে ওই দলটি কুলটি, বরাকর এলাকাতেও একই কাজ করেছে। জঙ্গলমহলে অন্য সংস্থার নাম ভাঁড়িয়ে ভোটারদের কাছ থেকে খুঁটিনাটি জানার বিষয়টি আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। এর পিছনে কাদের হাত রয়েছে, তা পুলিস তদন্ত করে দেখছে। তিনি আরও বলেন, বিজেপি ছদ্মবেশে গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করছে। গ্রামবাসীদের সজাগ থাকার জন্য আমরা বারবার বলছি।
সম্প্রতি বিধানসভা ভিত্তিক তৃণমূলের কর্মী সভা থেকে গ্রাম পাহারার ডাক দেওয়া হয়েছিল। গ্রামবাসীরা সতর্ক থাকার কারণেই ভিন জেলা ও অন্য রাজ্যের বাসিন্দা ওই পাঁচ বহিরাগতকে পুলিস ধরতে পেরেছে। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দলের তরফে তালডাংরায় কাউকে সমীক্ষার ভার দেওয়া হয়নি। ধৃতদের ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। তৃণমূলের একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে। ফলে তাদের দলেরই কেউ ওই পাঁচজনকে দিয়ে আলাদা করে সমীক্ষা করাচ্ছিল কি না, তা পুলিসের তদন্ত করে দেখা উচিত।