নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৯ সালে ক্যানিং থেকে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ করে মোটা টাকায় দিল্লির এক নিষিদ্ধপল্লিতে পাচার করে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় সিআইডি’র হাতে ধৃত পাঁচ অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। বৃহস্পতিবার আলিপুরের বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক রিম্পা রায় জেল হেপাজতে থাকা পাঁচ অভিযুক্তকে একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আজ, শুক্রবার তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষিত হবে। দোষী সাব্যস্ত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং দু’জন মহিলা। অপরাধীরা আদালতে নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে অপরাধীরা দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এদিন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার পরিবার।
এই মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অনির্বাণ গুহঠাকুরতা জানান, ২০১৯ সালে জুলাই মাসে বাসন্তী থানা এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছরের কিশোরীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্যানিং থেকে অপহরণ করেন এক যুবক। এরপর তাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন দালাল মারফত তাকে বিক্রি করা হয় এক নিষিদ্ধপল্লিতে। এদিকে, কিশোরীর বাবা ক্যানিং থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি।
তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, কিশোরীকে টাকার বিনিময়ে দিল্লির এক নিষিদ্ধপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘটনার চার মাসের মাথায় সিআইডি দুই মহিলা সহ পাঁচ অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। উদ্ধার করা হয় কিশোরীকে। তাকে কলকাতায় এনে চিকিৎসা করানো হয়।
মামলার তদন্ত শেষ করে সিআইডি আলিপুর আদালতে চার্জশিট দেয়। মামলায় সাক্ষ্য দেন ১১ জন। বিচার চলাকালে পাঁচজনকেই আদালতে শনাক্ত করে কিশোরী। দীর্ঘ শুনানির শেষে এদিন বিচারক অভিযুক্তদের একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। সরকারি কৌঁসুলি এদিন আদালতে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া সাজার দাবি জানান।