নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: জলপাইগুড়ির গজলডোবা তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় জলে ভেসে যাচ্ছিল ছোট্ট একটি হাতি। শাবকটিকে দেখতে পান উত্তরবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের কয়েকজন। তৎক্ষণাৎ ক্রান্তি-পাঞ্জাব বাঁধ থেকে ডিঙি নৌকা নিয়ে জলে নেমে পড়েন পাঁচজন। প্রাণপণে ডিঙি টানতে থাকেন। কোনোরকমে পৌঁছন শাবকটির কাছাকাছি। প্রায় ৪ কিলোমিটার জলে-মানুষে টানাটানির পর অবশেষে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করতে পারেন। নৌকায় তোলেন। তারপর নিয়ে আসেন ডাঙায়, নিরাপদে।
এতক্ষণ উদ্ধারের উত্তেজনা, গায়ে কাঁটা ধরানো অ্যাডভেঞ্চার, মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরানোর ঘটনায় আনন্দের ছবি তৈরি হয়েছিল। হাঁ করে তা দেখেছেন সবাই। এরপর যে ছবিটি তৈরি হল তা অনাবিল স্নেহের। আপামর পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীকুলের সব মা সেই স্নেহের ভাষাতেই কথা বলে। বাচ্চা হাতিটিকে উদ্ধার করে মৎসজীবীরা বনদপ্তরের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তারপর দেখা গেল, সন্তানের ডাক শুনে দূর থেকে ছুটে আসছে তার মা। তারপর নিজের সন্তানকে নিজের বিশাল শরীরে প্রায় লুকিয়ে নিল। আগলে আগলে ফিরে চলে গেল জঙ্গলে। এ দৃশ্য দেখার ভাগ্য সবার হয় না। যাঁরা দেখলেন তাঁরা কার্যত স্থানুবৎ।
সোমবার সকালে উত্তাল তিস্তা নদীতে ডিঙি নৌকা ছুটিয়ে হস্তিশাবককে উদ্ধার করেছেন যে মৎস্যজীবীরা তাঁরা হলেন, উত্তরবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের মিঠু দাস, রাজেশ দাস, বিশ্বনাথ দাস, গোপাল দাস ও বাবলু দাস। উদ্ধারকারী মিঠু দাস বলেন, ‘আমরা দেখতে পেলাম হস্তিশাবকটি জলে ভেসে যাচ্ছে। এরপর বাঁচাতে নদীতে নেমে পড়ি। কোনোরকমে উদ্ধার করি। আমরা খুব খুশি।’ বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘উত্তাল নদী থেকে পাঁচ মৎস্যজীবী হস্তীশাবককে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেছেন। শাবকটিকে মায়ের সঙ্গে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ কাঠামবাড়ি, সালুগাড়া ও বেলাকোবা রেঞ্জের যৌথ প্রচেষ্টায় নিজের জঙ্গলে ফিরে গিয়েছে হস্তিশাবক। উদ্ধারের এই ঘটনাটিকে বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের এক অনন্য নিদর্শন বলে বর্ণনা করছেন সকলে।