Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাভজনক হওয়ায় পাবদা মাছ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন জেলার মৎস্য চাষিরা

লাভজনক হওয়ায় পাবদা মাছ চাষে  আগ্রহ দেখাচ্ছেন জেলার মৎস্য চাষিরা
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: চাহিদা থাকলেও পাবদা মাছ উৎপাদনে বীরভূম জেলা একপ্রকার পিছনের সারিতে রয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে জেলার নানুর, লাভপুর ও সিউড়ি-২ ব্লকে সামান্য পরিমাণে পাবদা মাছের চাষ হচ্ছে। তবে বর্তমান সময়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের সঙ্গেই ক্যাটফিশ প্রজাতির এই মাছের চাষ হচ্ছে। তবে এককভাবে এখনও জেলায় পাবদা মাছের চাষ হয় না। সেক্ষেত্রে এবার জেলার মৎস্য দপ্তর লাভজনক এই মাছ চাষে স্বনির্ভর হতে চাইছে। সেক্ষেত্রে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, পাবদা মাছ চাষে আগ্রহী চাষিদের চারাপোনা সহ খাবার বিনামূল্যে দেওয়া হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেই জেলাজুড়ে পাবদা মাছের চাষ শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য দপ্তরের ডিএফও(প্রশিক্ষণ) কল্লোল মুখোপাধ্যায় বলেন, পাবদা মাছের চাষ খুবই লাভজনক। তবে জেলায় এখনও সেভাবে এই মাছের চাষ হয় না। ইতিমধ্যে আমরা মিশ্র চাষের মাধ্যমে পাবদার উৎপাদন শুরু করেছি। বেশকিছু চাষি এই মাছ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আগামীতে জেলায় আরও বড় আকারে পাবদা মাছের চাষ শুরু করার ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ‘আতমা’ প্রকল্পের হাত ধরে আমরা এগতে চাইছি।

Advertisement

বীরভূম জেলায় মূলত রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্লাসকার্প ও বাটা মাছের চাষ হয়। ফলত জেলার চাহিদা পূরণে বর্ধমান, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকা থেকে পাবদা মাছের আমদানি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে বছর দুই-তিন আগে জেলা মৎস্য দপ্তর পাবদা চাষে নজর দেয়। শুরুতেই মিশ্র চাষের মাধ্যমে সাফল্য আসে। জেলার লাভপুর, নানুর ও সিউড়ি-২ ব্লকের একাধিক চাষি রুই, কাতলা ও মৃগেলের সঙ্গে পাবদা মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন। অন্যদিকে, জেলায় পাবদার উৎপাদন নিশ্চিত হতেই এবার আতমা প্রকল্পের হাত ধরে এককভাবে ক্যাটফিশ প্রজাতির মাছ চাষে জোর দেওয়া হচ্ছে। দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, পাবদার উৎপাদন বাড়াতে এবার জেলার ১৯টি ব্লকে প্রদর্শনী কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে এক বিঘা জমিতে থাকা পুকুর বাছাই করা হবে। পরবর্তীতে জেলার মৎস্য উৎপাদক গোষ্ঠীদের ওই পুকুরে পাবদা চাষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের উৎসাহ বাড়াতে সরকারি ভাবে অনুদানও দেওয়া হবে।
বীরভূম জেলায় প্রায় ১৫০টি মৎস্য উৎপাদক গোষ্ঠী রয়েছে। আতমা প্রকল্পের হাত ধরে পাবদার উৎপাদন বৃদ্ধিতে ওই গোষ্ঠীর একাংশকে বাছাই করা হবে। অন্যদিকে, জেলায় পাবদার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্ধমান ও নদীয়া থেকে চারাপোনা আমদানি করা হবে। পরবর্তীতে সেই চারাপোনা জেলার চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সব শেষে তাঁদের হাত ধরেই খোলা বাজারে সেসব বিক্রি করা হবে। নানুর ব্লকের চাষি অসীম মণ্ডল বলেন, রুই, কাতলা ও মৃগেলের সঙ্গে বছর কয়েক পাবদা চাষ করেছি। এই মাছ খুবই লাভজনক। মাছ বিক্রির জন্য বাজার পর্যন্ত পৌঁছতে হয় না। আগামীতে উপযুক্ত পুকুর ও সরকারি সহযোগিতা পেলে এককভাবে পাবদা মাছ চাষ করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ