নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পিকআপ ভ্যানের মাথায় পাম্প চালিয়ে জলভর্তি গাড়িতে মাছ পরিবহণ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। রাস্তায় যাওয়ার সময় আঁশটে জল লোকজনের গায়ে পড়ছে। এনিয়ে তর্ক-বিতর্ক থেকে ঝামেলা নিত্যদিনের ঘটনা। ময়নার রুই, কাতলা, মৃগেল সহ জ্যান্ত মাছ পরিবহণে এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এল খড়্গপুর আইআইটি। তাদের প্রযুক্তির সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে ইনসুলেটেড গাড়ি। সেই গাড়ির উপর ঢাকনা থাকবে। তাতে ৪০০কিলোমিটার পর্যন্ত জ্যান্ত অবস্থায় মিষ্টিজলের ওইসব মাছ গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া যাবে। ভর্তুকি সমেত মৎস্য ব্যবসায়ীদের ওই গাড়ি দেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার ময়নার মৎস্য উন্নয়ন কমিটির সভায় আলোচনা হয়। সংগঠনের সম্পাদক পিন্টু দাস বলেন, ইনসুলেটেড গাড়িতে আগামী দিনে ময়নার মাছ পরিবহণ করা হবে। খড়্গপুর আইআইটির প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ওই গাড়ি তৈরি হবে। এনিয়ে খড়্গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।
মাছ পরিবহণের জন্য ইনসুলেটেড গাড়ি ছাড়াও আগামী দিনে ময়নায় মৎস্য হাব গড়ে উঠতে চলেছে। সম্প্রতি ফিশারি দপ্তরের অফিসাররা দু’দফায় প্রস্তাবিত এলাকা ঘুরে দেখেছেন। দরবার মোড় সহ আরও দু’-তিনটি জায়গা নিয়ে আলোচনা চলছে। একলপ্তে ১০-১২একর জমি লাগবে। সেখানে ডিমপোনা তৈরি করে মাছ বড় করা এবং ট্রান্সপোর্ট সব একই ছাতার তলায় থাকবে। বরফ কলও থাকবে। সেন্ট্রাল প্রজেক্টে ময়নায় মৎস্য হাব তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য।
মঙ্গলবার ময়নায় মৎস্য উন্নয়ন কমিটির সভা ছিল। সেখানে প্রায় সাড়ে তিনশো মৎস্য ব্যবসায়ী অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিডিও জগন্নাথ বিশ্বাস, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গৌতম গুরু, কমিটির সভাপতি পরেশনাথ দাস ও সম্পাদক পিন্টু দাস। কমিটির পক্ষ থেকে ময়নার গুরুত্বপূর্ণ খাল সংস্কারের দাবি জানানো হয়। নিকাশি সমস্যায় জর্জরিত ময়না। এনিয়ে অনেকসময় ফিশারি মালিকদের দায় নিতে হয়। তাই ময়নায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ খাল আছে সেগুলি সংস্কার করার জন্য বিধায়ক তথা মন্ত্রী অশোক দিন্ডার নজরে আনা হবে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় তহবিলের মাধ্যমে যাতে গুরুত্বপূর্ণ খালগুলি সংস্কার হয় তানিয়ে কমিটির পক্ষ থেকে দরবার করা হবে। ময়নায় জমা জল বের করার জন্য পাম্প চালাতে হয়েছে। ইলেকট্রিক বিলে সরকারের পক্ষ থেকে মেটানো হলেও পাম্পের খরচ জোগাড় করার জন্য এদিন মৎস্যজীবীদের মাথাপিছু ২০০টাকা ফি ধার্য হয়।
সভায় ময়না মৎস্য উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক পিন্টুবাবু বলেন, আমরা মৎস্যজীবীরা ময়নার অর্থনীতিকে একটা ভালো জায়গায় দাঁড় করিয়েছি। এই মুহূর্তে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভেনামি চিংড়ির অবস্থা বেশ খারাপ। মাত্র ৩০শতাংশ ভেড়িতে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। বাকি জমি খালি পড়ে রয়েছে। কিন্তু, আমাদের ময়নার মিষ্টি জলের মাছচাষ নিয়ে এখনো সমস্যা নেই। এরাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় আমাদের উৎপাদিত মাছ পৌঁছায়। আগামী দিনে এখানে মৎস্য হাব তৈরি হবে। সম্প্রতি দু’দফায় ভিজিট হয়েছে। ডিমপোনা তৈরি থেকে মাছ বড় করা এবং বিক্রি করা সবটাই মৎস্য হাবের অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া খড়্গপুর আইআইটির প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ইনসুলেটেড গাড়িতে মাছ এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। পিকআপ ভ্যান থেকে গায়ে জল পড়ার মতো ঘটনা আগামী দিনে বন্ধ হবে।