Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মকুটমণিপুর জলাধারে খাঁচায় মাছ চাষ করে লক্ষ্মীলাভ মৎস্যদপ্তরের

মকুটমণিপুর জলাধারে খাঁচায় মাছ চাষ করে লক্ষ্মীলাভ মৎস্যদপ্তরের
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মকুটমণিপুর জলাধারে খাঁচায় মাছ চাষ করে লক্ষ্মীলাভ হয়েছে মৎস্যদপ্তরের। গত এক বছরে ভিনরাজ্যে পাঙাস মাছ রপ্তানি করে রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়েছে ২৭ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যেই ৩১টন মাছ বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে আরও ১৫টন মাছ বিক্রি করা যাবে বলে বাঁকুড়া জেলা মৎস্যদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। ফলে, আরও প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে আরও বড় আকারে খাঁচা তৈরি করে মাছ চাষ করা হলে, শুধুমাত্র মুকুটমণিপুর জলাধার থেকেই বছরে এক কোটি টাকা আয় হতে পারে। এমনই দাবি মৎস্য বিশেষজ্ঞদের। 

Advertisement

এদিকে, জেলার অভ্যন্তরে জলাশয়গুলিতে মাছ চাষে উৎসাহ জোগাতে মৎস্যদপ্তরের তরফে বিনামূল্যে চাষিদের চারাপোনা দেওয়া হচ্ছে। জেলার ২২টি ব্লকের ২৬০০ চাষিকে মাথাপিছু এক হাজার চারাপোনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিম঩ধ্যেই ওই কর্মসূচি শুরু হয়ে গিয়েছে।
বাঁকুড়ার সহ মৎস্য অধিকর্তা কিরণলাল দাস বলেন, জলাধারে খাঁচায় মাছ চাষ করে আমরা সাফল্য পেয়েছি। মুকুটমণিপুর জলাধারে থাকা ৩২টি খাঁচায় বড় হওয়া পাঙ্গাস মাছ ঝাড়খণ্ডে রপ্তানি করা হচ্ছে। এ রাজ্যের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়ও বাজারদরের চেয়ে কম দামে ওই মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমরা ৩১টন মাছ বিক্রি করে ২৭ লক্ষ টাকা পেয়েছি। এই দফায় প্রায় ৪০লক্ষ টাকা আয় হবে। প্রথম দফায় পরীক্ষামূলকভাবে খাঁচায় মাছ চাষ করে সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। আগামী দিনে জলাধারে পরিকাঠামো বৃদ্ধি করলে মাছ বিক্রি করে আয় আরও বাড়ানো যেতে পারে।
জেলা মৎস্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দেড়েক আগে মুকুটমণিপুরে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু হয়। ২৮০০বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ৩২টি খাঁচা রয়েছে। আটটি করে খাঁচা নিয়ে এক একটি ইউনিট (ব্যাটারি) তৈরি করা হয়। ওইসব খাঁচা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ৫মিটার করে হয়। তার গভীরতা ৪মিটার। মাছের খাবার দেওয়া ও খাঁচা দেখভালের জন্য জলাধারের মাঝে তৈরি হয়েছে ভাসমান ঘর। প্রথম দফায় তৎকালীন মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীর উপস্থিতিতে এক লক্ষ ১৫ হাজার ২০০টি পাঙাস মাছের চারা খাঁচায় ছাড়া হয়েছিল। সেইসব মাছই বড় হওয়ার পর ভিনরাজ্যে রপ্তানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু মাছ স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করা হয়।
মৎস্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, উন্নত প্রজাতির বড় আকারের পাঙ্গাস মাছের ভালো স্বাদ রয়েছে। রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন পদে ভেটকি মাছের বিকল্প হিসেবে অনেকেই পাঙাস ব্যবহার করে থাকেন। 
বাড়িতেও পাঙাসের নানা পদ মাছপ্রিয় মানুষের রসনাতৃপ্তি করছে। আগামী দিনে মুকুটমণিপুর জলাধারের খাঁচায় পাঙ্গাসের পাশাপাশি অন্য মাছ চাষ করা যায় কি না, তাও আমরা খতিয়ে দেখছি।  এইভাবে মুকুটমণিপুর জলাধারে খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ