Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাড়িতে হাঁটুসমান জলে ঘুরছে মাছ, বৃষ্টিতে নাজেহাল উত্তর দমদম

শৈলডুবির বাসিন্দা রামপদ দাস একপ্রকার জোর করেই টেনে নিয়ে গেলেন বাড়ির ভিতর। ছোট বাড়ির মধ্যে হাঁটুসমান জল। শোওয়ার ঘরে মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বাড়িতে হাঁটুসমান জলে ঘুরছে মাছ,  বৃষ্টিতে নাজেহাল উত্তর দমদম
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শৈলডুবির বাসিন্দা রামপদ দাস একপ্রকার জোর করেই টেনে নিয়ে গেলেন বাড়ির ভিতর। ছোট বাড়ির মধ্যে হাঁটুসমান জল। শোওয়ার ঘরে মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুকুর উপচে জল ঢুকছে গৃহস্থ বাড়িতে। জলের সঙ্গে ঢুকছে মাছ। পোকামাকড়। উত্তর দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এ সব নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটচ্ছেন। 

Advertisement

এই একটি ওয়ার্ড শুধু নয়। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বড় অংশ এখনও জলমগ্ন। দুই ওয়ার্ডের জলের চাপে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষসরণি, নবনগর, মন্দিরপাড়া এলাকারও একই চিত্র। ৩৪ ও চার নম্বর ওয়ার্ডের ফতুল্লাপুর, মিলনগড়, ২২ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসুদেবনগর বিদ্যাসাগর পল্লি সহ আশপাশের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট জলের তলায়। এর পাশাপাশি ১১ নম্বরে শৈলডুবির পাশের পাড়া উত্তর গোলবাগানেও একই পরিস্থিতি। এছাড়া উত্তর প্রতাপগড়, পশ্চিম প্রতাপগড়েও জল যন্ত্রণায় নাজেহাল মানুষ। পথকুকুররা আশ্রয় নিয়েছে গৃহস্থ বাড়ির উঠোনে। রাস্তাঘাটে মাছ ঘুরছে। উঠোন থেকে রাস্তায় পা দিলেই গোড়ালি থেকে হাঁটু সমান জল। এমনকি পানীয় জলের পাইপলাইনও জলের তলায়। তার মধ্যে থেকে উঁচু হয়ে থাকা কোনও ট্যাপ কল থেকে জল সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা। বহু এলাকা জলমগ্ন। বাড়িগুলি জল থইথই।
মঙ্গলবার দিনভর জল যন্ত্রণায় নাজেহাল হয়েছিল উত্তর শহরতলি। বৃষ্টি কমার পর বহু জায়গা থেকে জল নেমেছে। কিন্তু উত্তর দমদম পুর এলাকায় জল যন্ত্রণা কমেনি। এমনকি এখনই কমার কোনও সম্ভাবনাও নেই। বহু রাস্তাতেই হাঁটু সমান জল। নাভিশ্বাস উঠছে শহরবাসীর। অভিযোগ জল জমার অন্যতম কারণ, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উঁচু ড্রেন। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এক্সপ্রেসওয়ে বরাবর খাল সংস্কারের পরিকল্পনা হয়েছে। কিন্তু সে কাজ বাস্তবায়িত হয়নি এখনও। পুরসভা পাম্প বসিয়ে কিছু জায়গায় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস বলেন, ‘পশ্চিম প্রতাপগড় ও কাঠপোল এলাকায় পাম্প বসিয়ে জল নামানোর চেষ্টা হচ্ছে। মন্দিরপাড়া থেকে ফতেশাখাল পর্যন্ত নতুন ড্রেনের কাজে পাঁচ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এ কাজ সম্পূর্ণ হলে সমস্যা কমবে। এছাড়া কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া খাল সংস্কার করে জল নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করতে রাজ্য সরকার বড় পরিকল্পনা করেছে। পরিদর্শন হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ হলে সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ