নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: এক সময় সাহেববাঁধের জল পান করত গোটা শহর, সেই সাহেব বাঁধেই মিশছে দূষিত জল। ফি দিন মরছে মাছ। গত কয়েক দিনে শয়ে শয়ে মাছ মরেছে এই বাঁধে। অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার পুরুলিয়া পুরসভা ও মত্স্য দপ্তরের কর্তারা সরেজমিনে সাহেববাঁধ পরিদর্শন করেন। এনিয়ে ক্ষুব্ধ আশপাশের বাসিন্দারা।
সপ্তাহ খানেক ধরেই সাহেববাঁধে মরা মাছ ভাসতে দেখা যাচ্ছিল। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন আশেপাশ এলাকার বাসিন্দারা। এনিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল প্রাতঃভ্রমণকারীদের মধ্যেও। কেন সাহেব বাঁধে মাছ মরছে, তার তদন্ত করে সমস্যার সমাধানের দাবি তুলছিলেন বাসিন্দারা। প্রসঙ্গত, সাহেব বাঁধ নিয়ে আবেগ রয়েছে পুরুলিয়া শহরবাসীর। ১৮৩৮ সালে মানভূমের জেলা সদর মানবাজার থেকে পুরুলিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। শহর থেকে কংসাবতী নদী ছিল প্রায় ছ’কিলোমিটার দূরে। তাই জলের বন্দোবস্ত করতে ৮৫ একর জায়গাজুড়ে বাঁধ খনন করেন ব্রিটিশরা। ২০১১ সালে জাতীয় সরোবরের মর্যাদা পায় সাহেববাঁধ। তার পরে দফায় দফায় অনেক টাকা খরচ করে জলাশয়টির সংস্কার হয়েছে। সৌন্দর্যায়নও হয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণে পুরসভা যে সম্পূর্ণ উদাসীন, তা এই ঘটনাতেই প্রমাণিত।
মাস কয়েক আগে মৎস্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি মত্স্য উত্পাদনকারী গোষ্ঠীকে মাছ চাষের জন্য সাহেববাঁধ লিজ দেয় পুরসভা। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শয়ে শয়ে মাছ মরতে থাকে। এদিন পরিদর্শনে গিয়ে পুরুলিয়ার সহকারী মৎস্য অধিকর্তা অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বৃষ্টিপাতের ফলে নর্দমার দূষিত জল সাহেববাঁধে ঢুকছে। সেই কারণেই মাছ মরছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে। জলে অক্সিজেন লেভেল কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টাও চলছে। এতে মাছের মড়ক অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সাহেববাঁধে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে। তবে সেটি নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। সেটি সক্রিয় করা হবে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুনয় কবিরাজ বলেন, বর্ষায় সূর্যসেন পল্লিতে জল জমে যায়। তবে, বৃষ্টির সেই জল সাহেববাঁধে ফেললে ভারসাম্য রক্ষা পাবে। সেই নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে।