কুন্তল পাল, বনগাঁ: সারা সপ্তাহ কাজ করে শনিবার বাড়িতে ফিরেছিলেন তাপস চক্রবর্তী। রবিবার সকালে গিয়েছিলেন বনগাঁর নিউ মার্কেটে। ইচ্ছা ছিল, দুপুরে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া করবেন বাড়ির সকলের সঙ্গে। তাই বাজার থেকে একটি বড়ো সাইজের ‘বাংলাদেশের ইলিশ’ কিনে এনেছিলেন। স্ত্রীকে বলেছিলেন, সর্ষে দিয়ে জমিয়ে রান্না কর তো! দুপুরে খেতে বসে হতাশ হয়েছেন তাপসবাবু। সাধের ইলিশ মুখে দিয়েই বুঝতে পেরেছেন, এ ইলিশ সে ইলিশ নয়। তাঁকে বেমালুম ঠকিয়ে দিয়েছে মাছ বিক্রেতা। শুধু তাপসবাবু বাবু নন, ওই বাজার থেকে ‘বাংলাদেশের ইলিশ’ কিনে ঠকতে হয়েছে অনেককেই।
বাজার জুড়ে ঝাঁ চকচকে ইলিশের সারি। লোভনীয় সাইজ। বিক্রেতার কথার জাদুতে মোটা টাকা খরচ করে বড়ো সাইজের ‘বাংলাদেশের ইলিশ’ কিনে ঠকছেন বাঙালিরা। বাজারে এই বড়ো সাইজের ইলিশ আসছে মহারাষ্ট্র থেকে। বাংলাদেশের ইলিশের সঙ্গে ওই ইলিশের স্বাদের তুলনা চলে না। বনগাঁ শহরের বিভিন্ন বাজার মহারাষ্ট্রের ইলিশে ছেয়ে গিয়েছে। বুধবার বনগাঁ নিউ মার্কেটে গিয়ে দেখা গেল সেই ছবি। মাছ বিক্রেতাদের ডালায় শোভা পাচ্ছে দেড় থেকে দু’কেজি ওজনের ইলিশ। দাম ১৬০০ থেকে ২২০০ টাকা। বিক্রেতাদের কথায়, এগুলি পদ্মার ইলিশ। কিন্তু পদ্মার ইলিশ কোথা থেকে কীভাবে বনগাঁর বাজারে এল? অনেকেরই দাবি, মহারাষ্ট্রের ইলিশ এগুলি। শুধু ব্যবসার তাগিদে ‘বাংলাদেশের ইলিশ’ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক বিক্রেতা জানান, মাছ দেখে সাধারণ মানুষের পক্ষে তফাত বোঝা সম্ভব নয়। কিন্তু দাম কম বললে সন্দেহ হবে। তখন কিনবেন না কেউ। তাই পদ্মার ইলিশের দামেই বিক্রি করা হচ্ছে এগুলি। অন্যদিকে, ছোটো ইলিশেও ভরে গিয়েছে বাজার। যেখানে ছোটো মাছ ধরা নিষেধ, সেই নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ছোটো মাছ ধরছে।
এইসব ইলিশ কোথা থেকে আনা হচ্ছে, কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তা যাচাই করার জন্য বনগাঁ থানায় অভিযোগ করেছিল ভারতীয় মজদুর সংঘ। এবিষয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সহ মৎস্য অধিকর্তা অমলেন্দু বর্মন বলেন, আমরা সবসময় মানুষকে সচেতন করছি যাতে ছোটো ইলিশ না কেনেন। বাজারগুলিতেও অভিযান চালানো হচ্ছে। আগামী দিনেও বাজারে অভিযান চালানো হবে। নিজস্ব চিত্র