নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: শনিবার পৃর্ব, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বসল এই বছরের প্রথম লোক আদালত। এদিন তমলুকে সিজেএম কোর্টে লোক আদালতের বিশেষ বেঞ্চ বসেছিল। বিচারক এবং দুই সহকারী বিচারক বসে আছেন। জেলা ও দায়রা বিচারক প্রিয়ব্রত দত্ত এবং জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব শুভজিৎ রক্ষিত ওই কক্ষে যেতেই বিচারক জানান, ৯১টির মধ্যে একটি মামলারও নিষ্পত্তি হয়নি। কারণ, কোনও মামলাতেই দু’পক্ষ আদালতে হাজির হয়নি। আদালত ভবনের থার্ড ফ্লোরে সিভিল জজ সিনিয়র ডিভিশন-২ কোর্ট রুমেও বেঞ্চে মোট ১৮৩টি ঋণখেলাপি কেস ছিল। উপস্থিত হন মাত্র ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন ঋণ শোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেন। আদালত ভবনের সেকেন্ড ফ্লোরে ফার্স্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্ট রুমে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের ঋণখেলাপিদের মামলা মিটমাটের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। ডিস্ট্রিক্ট জজ ঢোকার মুহূর্তে ওই বেঞ্চে ময়নার গৌরাঙ্গচক গ্রামের এক ঋণখেলাপি মহিলা উপস্থিত ছিলেন। দু’দফায় তিনি ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিলেও মাত্র এক লক্ষ শোধ করেছেন। উপস্থিত ব্যাঙ্কের অফিসার জানান, ৫ লক্ষ ১২ হাজার টাকা দিলেই তাঁর সব ঋণ মকুব। ওই মহিলা বলেন অত টাকা দেওয়া কঠিন। এবার স্বয়ং ডিস্ট্রিক্ট জজ ব্যাঙ্ক অফিসারদের টাকার পরিমাণ কমাতে বলেন। সেইমতো সাড়ে চার লক্ষ টাকা চূড়ান্ত হয়। কিন্তু, তাতেও সন্তুষ্ট নন ওই ঋণখেলাপি। এরপর জেলা জজ বলেন, তাহলে আপনি এসেছেন কেন? নানা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জমে থাকা মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রতি বছর চারবার দেশজুড়ে লোক আদালত বসে। শনিবারও ২০২৫ সালের প্রথম লোক আদালত বসেছিল। ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ ছাড়ের সুবিধা থাকে। আপসে মামলার সমাধান করতে প্রত্যেক বেঞ্চে হাজির ছিলেন বিচারকরা। কিন্তু, যাঁদের কথা ভেবে এই আয়োজন তাঁদেরই দেখা নেই। এদিন অনেক ঋণখেলাপি সুবিধা পেয়েছেন। যেমন, সুতাহাটা থানার দুর্গাপুর গ্রামের দুই বাসিন্দা ২০১১ সালে পিএনবির শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা করে কৃষিঋণ নিয়েছিলেন। তা শোধ না করায় বাড়িতে নোটিস যায়। এদিন মাথাপিছু ৫৩০০ টাকা দিয়ে তাঁরা ঋণখেলাপি থেকে মুক্ত হন।
এদিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও জাতীয় লোক আদালত বসেছিল। জেলায় পাঁচটি আদালতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জানা গিয়েছে, এদিন মোট ২১টি বেঞ্চ বসেছিল। এদিনের লোক আদালতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডিস্ট্রিক্ট জজ সঞ্জয়কুমার দাস, জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সাহিদ পারভেজ। মোট আট হাজার মামলা ছিল। তার মধ্যে দু’হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। বেশিরভাগই বেসরকারি ও সরকারি ব্যাঙ্ক, ফাইন্যান্স কোম্পানির মামলা। লোক আদালতের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সাহিদ পারভেজ বলেন, সুষ্ঠভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কতৃপক্ষের পরিচালনায় জাতীয় লোক আদালতে ৯৩৭টি মামলার নিষ্পত্তি হল। শনিবার জেলা আদালত চত্বরে আটটি বেঞ্চ বসেছিল। ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক সুক্তি সরকার বলেন, ২৫৩৪টির মধ্যে ৯৩৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যাঙ্ক, বিদ্যুৎদপ্তর, পরিবহণ, জিআর, এনজিআর, এমএসিসির মোট বকেয়া ৩৬ লক্ষ ৫৪ হাজার ৪৩৮ টাকা আদায় করা হয়েছে।



