সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: ঢাল নেই, তলোয়ার নেই। কিন্তু ডাক্তারদের আন্তরিকতা রয়েছে। তাতেই ক্যাথল্যাব ছাড়াই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে প্রথম করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি সম্পন্ন হল। গত মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ এক হৃদরোগীর সফল অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করেন কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকরা।
ক্যাথল্যাব না থাকায় ৫৬ বছরের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আজও পূর্ণাঙ্গ কার্ডিওলজি ইউনিট চালু হয়নি। ফলে বহু গরিব মানুষকে বাধ্য হয়ে হৃদরোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা নার্সিংহোমে করাতে হচ্ছে। এক রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁর হৃদযন্ত্রের সঙ্কটজনক জটিলতা ধরা পড়ে। রোগীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে করোনারি অ্যাঞ্জিগ্রাফি করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।
কিন্তু ক্যাথল্যাব নেই, কী করে অ্যাঞ্জিগ্রাফি হবে? কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, জেনারেল ওটিতে অর্থোপেডিক্সের অঙ্গ প্রতিস্থাপনে যে সি-আর্ম মেশিন ব্যবহার হয় তার সাহায্যেই অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করার সিদ্ধান্ত নিই আমরা। রোগীর হৃদযন্ত্রের অবস্থা খুব জটিল ছিল। তাঁর পেসমেকার ঠিকমতো কাজ করছিল না। সেই সঙ্গে অন্যান্য জটিল উপসর্গ ছিল। তাই সরাসরি পেসমেকার প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলে তা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেকারণে দেখে নেওয়া দরকার ছিল ধমনিতে কোথাও ব্লকেজ রয়েছে কি না। তাই জরুরি ভিত্তিতে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করে দেখা যায় ওই রোগীর আর্টারিতে ব্যাপকহারে ব্লকেজ আছে। অবস্থা সঙ্কটজনক থাকায় তাঁকে আইসিইউতে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। পরিস্থিতি একটু স্থিতিশীল হলে বাইপাস সার্জারিতে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হবে।
পরিকাঠামো ছাড়া সফলভাবে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করার কৃতিত্ব তিনি কার্ডিওলজি বিভাগের সকল চিকিৎসক ও কর্মীদের দিয়েছেন। পাশাপাশি কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা ও হাসপাতালের সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ডাঃ বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রিন্সিপাল ও সুপার সবরকম সহযোগিতা করায় আমরা পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও সফলভাবে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করতে পেরেছি। তবে এভাবে নিয়মিত অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করা সম্ভব নয়। রোগীর পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, এখানে ক্যাথল্যাবের প্রয়োজন রয়েছে অনেকদিন থেকেই। ক্যাথল্যাব না থাকায় বহু রোগী এখানে পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগের চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না। যে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি হয়েছে সেটা জরুরি ভিত্তিতে করা প্রয়োজন ছিল। ডাক্তারদের কৃতিত্বে ক্যাথল্যাব ছাড়া তা সম্ভব হয়েছে। অন্তত পোর্টেবল ক্যাথল্যাব দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যভবনে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।