নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: প্রায় ৪৩০০ বিঘা জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি ও মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের তালিকায় একাধিক তৃণমূল নেতার নাম রয়েছে। কালীগঞ্জের চরগোপালপুর, ২০ নম্বর ফার্ম সহ বিস্তীর্ণ এলাকার জমি নিয়ে করা মামলায় ৪১জনের বিরুদ্ধেই এফআইআর করার নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার কৃষ্ণনগরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতের বিচারকের এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মামলাকারী পিন্টু ঘোষের অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে প্রায় ৪৩০০ বিঘা খাস ও লিজপ্রাপ্ত জমিতে বেআইনি ভাবে মাটি ও গাছ কাটার কারবার চলছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একাধিক ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যবান গাছ কেটেও পাচার করা হয়েছে অভিযোগ। আবেদনকারীর দাবি, জমির একাংশের লিজদার খৈতান কোম্পানি। কালীগঞ্জের চর গোপালপুর, ২০ নম্বর ফার্মের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার গঙ্গাটিকুরি এলাকার জমি নিয়েও একই অভিযোগ রয়েছে। ৪১জন অভিযুক্তের মধ্যে কালীগঞ্জ, পলাশী, মানিকদিহি, হরিনাথপুর, বড় কুলবেড়িয়া-সহ নদীয়ার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং কেতুগ্রামের কয়েক জন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত বলে মামলাকারীর দাবি। মামলায় শুধু জমি বা গাছ নিয়েই অনিয়মের অভিযোগ নয়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভয় দেখানোর নালিশও রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা, মহিলা এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি, অভিযোগ করলে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের কয়েকজন নিজেদের ‘রাজনৈতিক প্রভাব’-এর কথা বলে পুলিশ-প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না বলে হুমকি দিয়েছিল বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী পিয়ালি মোদক বলেন, ৪১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। বিচারক শুক্রবার সকলের বিরুদ্ধেই এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন।



