Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বন্দরের ‘হাল’ ফিরিয়ে ফের ময়দানে ফিরহাদ

একটা সময় বন্দর অঞ্চলে একাধিক জায়গায় ছিল খোলা নর্দমা। ছিল জল জমার সমস্যা। গত এক দশকে সেই ছবি পালটেছে। তৈরি হয়েছে কবিতীর্থ নিকাশি পাম্পিং স্টেশন।

বন্দরের ‘হাল’ ফিরিয়ে ফের ময়দানে ফিরহাদ
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

অর্ক দে, কলকাতা: একটা সময় বন্দর অঞ্চলে একাধিক জায়গায় ছিল খোলা নর্দমা। ছিল জল জমার সমস্যা। গত এক দশকে সেই ছবি পালটেছে। তৈরি হয়েছে কবিতীর্থ নিকাশি পাম্পিং স্টেশন। চলছে ময়লার ডিপো নিকাশি পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ। সেই সঙ্গে গার্ডেনরিচ সহ শহরের সর্বত্র পরিস্রুত পানীয় জলের জোগান বাড়াতে গার্ডেনরিচ জলপ্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে আরবান কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, আধুনিকীকরণ হয়েছে মেটারনিটি হোমের। প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র। 

Advertisement

বন্দর অঞ্চলের বিধায়ক হিসাবে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এলাকার মানুষের শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবায় বিশেষ জোর দিয়েছেন। সেই কারণে আগের তুলনায় অনেকটাই বদলেছে বন্দর অঞ্চলের হাল। প্রায় ১২ কোটি টাকা খরচে তৈরি হয়েছে নতুন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। ফিরহাদ তার নাম দিয়েছেন ‘এপিজে আবদুল কালাম ইংলিশ স্কুল’। আধুনিকীকরণ হয়েছে পুরানো স্কুলগুলিরও। সেই সঙ্গে বিধায়কের বিশেষ উদ্যোগে বন্দর এলাকায় চালু হয়েছে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। যেখানে বিনামূল্যে মেলে পরীক্ষার প্রশিক্ষণ।  তৈরি করেছেন মহিলাদের জন্য সরকারি গার্লস জেনারেল ডিগ্রি কলেজ। গার্ডেনরিচ মেটারনিটি হাসপাতালের আধুনিকীকরণ হয়েছে। এছাড়াও তৈরি হয়েছে আর্বান কমিউনিটি হেলথ সেন্টার। নতুন করে একটি হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে ইসিজি, ইকো থেকে শুরু করে যাবতীয় আধুনিক চিকিৎসা মিলবে। ভাটচালা হিন্দু ব্যুরিয়াল গ্রাউন্ডের আধুনিকীকরণ হয়েছে ববি হাকিমের হাতে ধরে। খাবারের জল থেকে শুরু করে জমা জলের সমস্যা কিংবা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন—বন্দর অঞ্চলে গত ১৫ বছরে আমূল পরিবর্তন এনেছেন ফিরহাদ। তাঁর কথায়, ‘এলাকাবাসীর আর্থসামাজিক মানোন্নয়ন আমার অগ্রাধিকার। শিক্ষাই সেই উন্নয়ন ঘটাতে পারে। বন্দর অঞ্চলের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় তাই প্রথম দিন থেকেই জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনেও বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।’
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অতীতে দেখা গিয়েছে, গার্ডেনরিচ সহ গোটা বন্দর অঞ্চলে সরকারি বিভিন্ন টিকাকরণ কর্মসূচি ততটা সাফল্য পেত না। সেই ছবিটা বদলেছে। যার কৃতিত্বও ববি হাকিমের। স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি হওয়ায় অঞ্চলের মানুষ ভরসা পেয়েছেন। 
নিকাশি ক্ষেত্রে বড়ো পদক্ষেপ করা হয়েছে। ময়লার ডিপো পাম্পিং স্টেশন চালু হয়ে গেলে পাহাড়পুর রোড সহ ১৩৩, ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং আংশিকভাবে ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তায় জমা জলের সমস্যা দূর হবে। তৈরি হচ্ছে মিন্ট কলোনি পাম্পিং স্টেশনও। এই কাজ হয়ে গেলে তারাতলা, গোড়াগাছা সহ ওই চত্বরে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জমা জলের সমস্যা মিটবে। কয়েক বছর হল, চালু হয়েছে কবিতীর্থ পাম্পিং স্টেশন। এর ফলে মূলত ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জমা জলের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন। আংশিকভাবে ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডও এই নিকাশি পাম্পিং স্টেশনের সুফল পেয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ