নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ছাব্বিশে বাংলায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না বিজেপি। সোমবার কালীগঞ্জের উপনির্বাচনে প্রচারে এসে বললেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তেহট্টের শহিদ জাওয়ান ঝন্টু আলি শেখ, ওয়াকফ আইন সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিজেপির সাম্প্রদায়িক মানসিকতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সারা ভারতবর্ষে ধর্মীয় বিভাজনের চেষ্টা করছে বিজেপি। কিন্তু ভারতবর্ষের মানুষ ঠিক করে নিয়েছে, সবাই মিলে একসঙ্গে থাকবে। পাশাপাশি তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদকে বিধায়ক হিসেবে কাজের পাঠ দেন ফিরহাদ সাহেব। তিনি বুঝিয়ে দেন, বিধায়ক দু’ধরনের হয়। এক, যাঁরা কলকাতায় ঘুরতে যান। দুই, যাঁরা কলকাতার বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে নিজের এলাকার কাজ নিয়ে আসেন। এমনই বিধায়ক ছিলেন কালীগঞ্জের নাসিরউদ্দিন আহমেদ। বিধায়ক কন্যা আলিফাকে সেই কাজ করার পরামর্শ দেন ফিরহাদ সাহেব।
এদিন কালীগঞ্জ বিধানসভার হাটগাছা পঞ্চায়েতে তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে আসেন সাংসদ জুন মালিয়া এবং মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এই পঞ্চায়েত এলাকায় গত লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ১১হাজার ভোটে লিড পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ পথ হুডখোলা গাড়িতে প্রচার করেন তাঁরা। বিভিন্ন জায়গায় ফুল ও মালা দিয়ে গ্রামের মহিলারা তাঁদের স্বাগত জানান। তবে আসাচিয়া এলাকার পশ্চিমপাড়ায় রাস্তা খারাপের জন্য গ্রামের কয়েকজন বিক্ষোভও দেখান। তাঁরা রাস্তার উপর বাঁশ ফেলে দেন। যদিও মন্ত্রীর আশ্বাসে সেই বিক্ষোভ উঠে যায়। তারপর কামারী এলাকার মাঠে জনসভায় যোগ দেন ফিরহাদ সাহেব। মন্ত্রী বলেন, এই উপনির্বাচনে বাংলায় কোনও পরিবর্তন হবে না। কিন্তু এই উপনির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, যারা একুশের নির্বাচনে ফেল করেছিল। তিনি বলেন, সম্প্রদায় দেখে ভোট হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ ও উন্নয়ন দেখে ভোট হবে। কারণ তিনি বাংলার কাণ্ডারী।
বিজেপিকে আক্রমণ করে ফিরহাদ সাহেব বলেন, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার মৃতদের পরিবারের সঙ্গে আমরা ছিলাম। সেই জঙ্গিদের মারতে গিয়ে নদীয়ার ছেলে ঝন্টু আলি শেখ শহিদ হয়েছেন। আমরা তাঁর দেহ আনতে গিয়েছিলাম, শহিদকে সালাম জানানোর জন্য। কিন্তু বিজেপির সেইসমস্ত নেতাদের তাঁর সঙ্গে দেখা যায়নি। শহিদের পরিবারের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়িয়েছিলেন। এদিনই কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচারে এসেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।