Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রামরাজাতলায় বাড়ির নীচে চলছিল বাজি তৈরি, বিস্ফোরণের গুরুতর জখম শ্রমিক

তিনতলা বাড়ির উপরের তলায় রয়েছে কুকুরদের জন্য চিকিৎসালয়। নীচে চলত বেআইনিভাবে আতশবাজি তৈরি।

রামরাজাতলায় বাড়ির নীচে চলছিল বাজি তৈরি, বিস্ফোরণের গুরুতর জখম শ্রমিক
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তিনতলা বাড়ির উপরের তলায় রয়েছে কুকুরদের জন্য চিকিৎসালয়। নীচে চলত বেআইনিভাবে আতশবাজি তৈরি। শনিবার সন্ধ্যায় ওই বাজি কারখানায় সময় আচমকা বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হলেন এক শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া শহরের রামরাজাতলার অম্বিকা কুণ্ডু লেনে। জখম শ্রমিকের নাম আকাশ হেলা (৩২)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে যান হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অম্বিকা কুণ্ডু লেনের ওই তিনতলা বাড়িটি প্রদীপ লাহিড়ী নামের এক ব্যক্তির। তিনি কেবল অপারেটর। পাশাপাশি পথ কুকুরদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও রয়েছে তাঁর। তাঁর বাড়ির নীচের অংশে আতশবাজি তৈরি করা হতো। হাওড়ার জিআরপি কলোনির বাসিন্দা আকাশ হেলা প্রদীপ লাহিড়ীর বাড়িতেই কাজ করতেন। তাঁকে দিয়েই বেআইনিভাবে বাজি তৈরি করানো হতো বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, কালীপুজোর জন্য বিভিন্ন ধরনের বাজি তৈরি করা হচ্ছিল সেখানে। এদিন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ বাজি তৈরি করতে গিয়ে আচমকাই বিস্ফোরণ হয়। শরীরের পিছনের অংশ ঝলসে যায় আকাশের। আগুন লেগে যায় বাড়ির একতলার ঘরে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে আসে জগাছা থানার পুলিশ। আসে দমকলের একটি ইঞ্জিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকল কর্মীরা।
দমকলের আধিকারিক অরিজিৎ দাস বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আতশবাজি ও বাজি তৈরি উপকরণ পাওয়া গিয়েছে। ওই বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ যদিও বাড়ির মালিক প্রদীপ লাহিড়ীর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘কত পরিমাণ বাজি তৈরি হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।› জনবহুল পাড়ার মধ্যে যে বাজি তৈরির কাজ চলছিল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউই মুখ খুলতে না চাইলেও হাবেভাবে তাঁদের অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে জখম শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা। তাঁর মেয়ে বলেন, ‘বাবা এখানে কাজ করত। কালীপুজোর জন্য এখানে বাজি তৈরি হতো বলে জানতাম।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ