নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসে গিয়েছে আলোর উত্সব। বড়বাজার, ক্যানিং স্ট্রিটজুড়ে ক্যাপ বন্দুক, আলো বিক্রি হচ্ছে। কালীপুজো মানেই লাগবে হরেকরকম বাজি। তবে ক্ষতিকারক নয় দরকার পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি। মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে কালীপুজো ও দীপাবলির আগে শহরজুড়ে বসছে একাধিক বাজি বাজার। ১৪ অক্টোবর থেকে বাজার শুরু।
চলতি বছর কলকাতা পুলিশের এলাকায় চারটি বাজি বাজার বসছে। শহিদ মিনার সংলগ্ন মাঠ, উত্তর কলকাতার টালা, দক্ষিণ কলকাতার বেহালা ও ইএম বাইপাস লাগোয়া কালিকাপুর মাঠে বসতে চলেছে বাজির বাজার। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক তত্পরতা তুঙ্গে উঠেছে। কলকাতার সবক’টি বাজি বাজার চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। জানা গিয়েছে, ৬ অক্টোবর পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বাজি ব্যবসায়ীদের একদফা বৈঠক হয়। আজ, শুক্রবার বাজি ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফের বৈঠক হবে পুলিশের। বড়বাজার ফায়ার ওয়ার্কস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু দত্ত বলেন, ‘আমরা আশা করছি ময়দানের বাজি বাজার আগামী ১৪ তারিখ থেকে শুরু করে দিতে পারব। এবারও মোটামুটি ৫০টির মতো দোকান রাখার চেষ্টা চলছে।’
বাজি বাজার নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। এ বছরও বিতর্ক তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান। বাজি বাজারগুলিতে শুধুমাত্র সবুজ বাজিই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি। কিন্তু কোনটা সবুজ বাজি, তা জানার উপায় কি? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিতর্ক চলছে গত কয়েক বছর ধরে। এবারও সবুজ বাজিতে কিউআরকোড থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। টালা বাজি বাজারের উদ্যোক্তা শুভঙ্কর মান্না বলেন, ‘টালাতে ১৪ তারিখেই বাজার শুরু হবে। এ বছর ৪৪টি দোকান বসানোর পরিকল্পনা আছে।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘কিউআরকোড এ বছর বাধ্যতামূলক নয়।’ বড়বাজার ফায়ার ওয়ার্কস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ধ্রুব নারুলাও বলেন, ‘এ বছর আলাদা করে বাজির প্যাকেটে কিউআরকোড থাকা বাধ্যতামূলক নয়। সরকারি সংস্থা নিরি অনুমোদিত প্রস্তুতকারকদের তালিকা থাকবে। সেই প্রস্তুতকারকদের তৈরি বাজিই বৈধ। পুরোনো বক্স ছাপানো থাকলে সেখানে অবশ্য কিউআরকোড থাকবে। পুলিশ অবৈধ বাজি ধরার কাজ করছে। ‘পপ’ নামের বাজিগুলি বেআইনি। আমরা সেগুলি আটকানোর চেষ্টা করছি।’ কিউআর কোডের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশ কর্মী নব দত্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে আগেই হাইকোর্টে গিয়েছিলাম। স্পষ্ট নির্দেশ ছিল সবুজ বাজির বিষয়ে। কিউআরকোড নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমরা এ নিয়ে সরকারের স্পষ্ট মতামত জানতে চাই। প্রয়োজনে আবার হাইকোর্টে যাব।’ অনেকের প্রশ্ন, প্রস্তুতকারকদের নামের তালিকা থাকলে তো যে কেউ বাজির প্যাকেটে সেই সংস্থার নাম বসিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তো নকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে।